মাদারীপুরে সাড়ে ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া প্রতারক দম্পতি গ্রেপ্তার
জেলা প্রতিনিধি
মাদারীপুর: বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানো এবং ব্যবসায় অংশীদার করার নামে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক প্রতারক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার (১৬ নভেম্বর) দুপুরে তাঁদের মাদারীপুর আদালতে প্রেরণ করেছে পুলিশ। এই দম্পতি ইতোমধ্যেই দুটি প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার ইশিবপুর গ্রামের জহিরুল ইসলাম ওরফে সিলন খান (৪০) ও তাঁর স্ত্রী নুর নাহার কনা (৩৪)।
পুলিশ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, জহিরুল ইসলাম একটি প্রতারণা মামলায় এক বছরের এবং তাঁর স্ত্রী নুর নাহার কনা আরেকটি মামলায় ৬ মাসের সাজাপ্রাপ্ত আসামি। তাঁরা বিভিন্নজনের কাছ থেকে বিদেশে নেওয়ার কথা বলে মোট ৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান।
তাঁদের প্রতারণার কৌশল ছিল ভিন্ন। তাঁরা দেশে বসেই নিজেদের ‘কানাডা প্রবাসী’ হিসেবে পরিচয় দিতেন এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য কানাডার ফেক নম্বর ব্যবহার করতেন, যাতে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা না যায়।
শনিবার (১৫ নভেম্বর) তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় র্যাব-৬ সদস্যরা ভারত সীমান্তে অভিযান চালিয়ে তাঁদেরকে যশোর থেকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁদের রাজৈর থানায় হস্তান্তর করা হয়। তাঁদের গ্রেপ্তারের খবর পেয়ে প্রতারণার শিকার ভুক্তভোগীরা থানায় ভিড় জমান।
প্রতারণার শিকার অ্যাডভোকেট ইমন হোসেন বলেন, “আমাকে অস্ট্রেলিয়ায় পাঠানোর কথা বলে বাইশ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে তারা। পরে একুশ লাখ টাকার একটি চেক দেয়। সেই চেক (ডিজঅনার) দিয়ে মামলা দায়ের করলে যশোরের র্যাব-৬ ও রাজৈর থানা পুলিশের সহযোগিতায় এদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
ভুক্তভোগীরা আরও জানান, কনা আগে এনজিও কর্মী ছিলেন। সেই সুবাদে অনেকের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলে পরে টাকা আত্মসাৎ করে পালিয়ে যান।
মাদারীপুরের রাজৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান বলেন, “প্রাথমিকভাবে চার কোটি ছত্রিশ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়া মামলায় সাজাপ্রাপ্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
বাংলাফ্লো/এফআইআর






