শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে প্রতিদিন হাঁটা যে কতটা উপকারী তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। কোনো জিমে যাওয়া ছাড়াই হাঁটা শরীরের জন্য দেয় বিস্ময়কর উপকার। কিন্তু সহজ এই অনুশীলনটিও অনেকেই ভুলভাবে করে থাকেন।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
সম্প্রতি এনালস অফ ইন্টারনাল মেডিসিন–এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন কত পা হাঁটছেন তার চেয়ে কীভাবে হাঁটছেন সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটার গতি ও ধারাবাহিকতা ১০ হাজার পা হাঁটার লক্ষ্য পূরণের মতোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
হৃদযন্ত্রের জন্য আদর্শ হাঁটার গতি
গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট ছোট বিরতিতে না হাঁটে বরং দীর্ঘ সময় নিরবচ্ছিন্নভাবে হাঁটা হৃদযন্ত্রের জন্য বেশি উপকারী। যারা একটানা অন্তত ১৫ মিনিট হাঁটেন, তাদের হৃদরোগ ও অকালমৃত্যুর ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যারা একটানা ১৫ মিনিট বা তার বেশি সময় হাঁটেন, তাদের মৃত্যুহার মাত্র ০ দশমিক ৮ শতাংশ এবং হৃদরোগের হার ৪ দশমিক ৩৯ শতাংশ। অপরদিকে, যারা পাঁচ মিনিট বা তার কম সময় হাঁটেন, তাদের মৃত্যুহার বেড়ে দাঁড়ায় ৪ দশমিক ৩৬ শতাংশ এবং হৃদরোগের হার ১৩ দশমিক ০৩ শতাংশ।
হাঁটার সময়কালেই নির্ভর করছে সুস্থতা
গবেষকরা বলছেন, হাঁটার সময়কাল সরাসরি হৃদযন্ত্রের সুস্থতার সঙ্গে সম্পর্কিত। দীর্ঘ সময় হাঁটা শুধু হৃদয়ের জন্য নয়, সার্বিক শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। তাই কেবল প্রতিদিন ১০ হাজার পা পূরণের লক্ষ্য নয়, বরং যেভাবে হাঁটছেন, সেটিই মূল বিষয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, হাঁটার সময় অযথা বিরতি না নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন গতি বজায় রাখার চেষ্টা করা উচিত। এমনকি যারা দৈনিক ৫ হাজার পা–এর কম হাঁটেন, তারাও নিয়মিত দীর্ঘ সময় ধরে হাঁটলে হৃদযন্ত্রের উপকার পেতে পারেন।


