জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের তিন ধাপের রূপরেখা ঘোষণা করেছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। সংবিধান সংশোধন, সরকারি আদেশ এবং গণভোটের মাধ্যমে সনদটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে কমিশনের পক্ষ থেকে।
আজ (২৮ অক্টোবর) মঙ্গলবার দুপুরে ফরেন সার্ভিস একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, সরকার কীভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে পারে, সেই বিস্তারিত রূপরেখা আমরা দিয়েছি। কোন সুপারিশগুলো অধ্যাদেশের মাধ্যমে, আর কোনগুলো সরকারি নির্দেশ বা অফিস আদেশে বাস্তবায়নযোগ্য—তা আমরা আলাদা করে চিহ্নিত করেছি।
অধ্যাপক রীয়াজ আরও জানান, কিছুক্ষণ আগেই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশমালা প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আজকের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোকে, যারা এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, তাদের অবহিত করা হবে। ছয়টি সংস্কার কমিশনের ১৬৬টি সুপারিশ রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছিল। ৩০টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে একাধিক বৈঠকে এসব প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এবং কমিশনের অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে চূড়ান্ত সুপারিশমালা তৈরি করা হয়েছে।
তিন ধাপের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া
ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা যেতে পারে—
১) সংবিধান-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অধ্যাদেশ জারি: যেসব পরিবর্তন সংবিধান সংশোধন ছাড়া করা সম্ভব নয়, সেগুলো অধ্যাদেশ আকারে ঘোষণা করতে হবে।
২) অফিস আদেশ ও সরকারি নির্দেশের মাধ্যমে সংস্কার: যেসব পরিবর্তন প্রশাসনিক নির্দেশ বা সরকারি আদেশে বাস্তবায়ন করা সম্ভব, সেগুলো তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করা হবে।
৩) সংবিধান সংশোধনের দুই পথ:
- প্রথমত, সরকার অবিলম্বে গণভোট আয়োজন করে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অনুমোদন চাইতে পারে।
- দ্বিতীয়ত, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবেও কাজ করবে। এই পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধানের সংশোধন, সংযোজন ও বিয়োজন সম্পন্ন করবে। নির্ধারিত সময়ে না হলে প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর হবে।
আলী রীয়াজ জানান, কমিশন প্রথমবারের মতো ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে, যা ভোটার অনুপাত অনুযায়ী প্রতিনিধিত্ব করবে। তবে প্রথম মেয়াদে এটি কার্যকর না করে কেবল কাঠামোগত প্রস্তুতি নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। কমিশন বিকল্প একটি পদ্ধতিও প্রস্তাব করেছে। সরকারের জারি করা বিশেষ আদেশের অধীনে গণভোট আয়োজন করা হবে, অথবা সংবিধান সংশোধনী বিল আকারে প্রস্তাব জনগণের সামনে উপস্থাপন করা যেতে পারে।
অধ্যাপক আলী রীয়াজ আশা প্রকাশ করেন, নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা জাতির প্রত্যাশা অনুযায়ী সনদ বাস্তবায়নে অকুণ্ঠভাবে কাজ করবেন।


