সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের বিতর্কিত শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্ভূত ঘটনাবলিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক।
রোববার (২৬ অক্টোবর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়েছে।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত অডিও ক্লিপ, নাট্যকলা বিভাগের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের তদন্ত প্রতিবেদন এবং ফরেনসিক প্রতিবেদনের মাধ্যমে নাট্যকলা বিভাগের সভাপতি কর্তৃক একজন চাকরি প্রার্থীকে রাজনৈতিক যোগাযোগে উৎসাহ প্রদান, আর্থিক বা অনৈতিক বিনিময়ের ইঙ্গিত দেওয়া এবং ব্যক্তিগতভাবে প্রার্থীর লেখা যাচাই করে সুবিধা প্রদানের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অথচ নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে নিয়োগ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার ব্যাপারে বিভাগের সভাপতি দায়বদ্ধ। যা লঙ্ঘন করার মাধ্যমে বিভাগীয় সভাপতির প্রশাসনিক ও নৈতিক দায়িত্বের এমন ব্যত্যয় ঘটেছে যে, পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়াটিই বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে। নাট্যকলা বিভাগের সভাপতির এমন আচরণ জন-আস্থার পরিপন্থি, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থবিরোধী, শিক্ষকতা পেশার সততা ও নৈতিক মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক এমন অগ্রহণযোগ্য ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, বিষয়টি নিয়ে কয়েক সপ্তাহ থেকেই শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন মাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। একাধিক গণমাধ্যমে এই বিষয়ে সংবাদও প্রকাশিত হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ন্যায় বিচারের দাবিতে অনশনে বসেছেন দুজন শিক্ষার্থী। তাঁদের অনশনের আজ চতুর্থ দিন। আমরা জেনেছি, দুজনেরই শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে, তবুও মৃত্যু অবধি তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আজ একবার তাঁদের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁর ওপর আস্থা রাখার আশ্বাস দিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের শান্ত থাকতে বললেও, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের ব্যাপারে তিনি কোনো আশ্বাস প্রদান করেননি। সুষ্ঠু তদন্তের ব্যাপারে প্রশাসনের এই অনীহা আমাদের আরও সংশয়ী করে তুলেছে।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে অস্বচ্ছতা ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগসহ নানা অভিযোগ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারিত ও প্রকাশিত হচ্ছে। তারই সর্বশেষ উদাহরণ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার উদ্ভূত পরিস্থিতি।
এই পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক মনে করে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচিত অভিযোগটির নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি শিক্ষক নেটওয়ার্কের দাবিসমূহ:
১. দ্রুত একটি স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।
২. তদন্ত প্রতিবেদন সর্বজনীনভাবে প্রকাশ করে বিশ্ববিদ্যালয় সমাজে আস্থা পুনরুদ্ধার করতে হবে।
৩. তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে দৃশ্যমান ও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. অনতিবিলম্বে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত করে সুষ্ঠু তদন্তের পর এ-বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
৫. শিক্ষার্থীদের ন্যায়বিচারের দাবি ও অধিকার চেতনার প্রতি সম্মান জানিয়ে দমননীতির বদলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহমর্মিতার পথ গ্রহণ করতে হবে।


