মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের কূটনীতিক ও দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি বার্তা সংস্থা এপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এই প্রথম জুলাই–আগস্টের আন্দোলনে যে গণহত্যা চলেছে, সেই বিষয়টি স্বীকার করে নিয়েছে।
শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক ভিডিওতে এ মন্তব্য করে তিনি ভিডিওতে বলেন, জয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন, ৮০০ জনের মৃত্যুর দায় হাসিনা সরকারের ওপর ছিল—যদিও জাতিসংঘের হিসাবে নিহতের সংখ্যা ১ হাজার ৪০০ জন হিসেবে গণ্য করা হয়।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য উপদেষ্টার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি (জয়) বলেছেন ১ হাজার ৪০০ নয় ৮০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তার মানে দাঁড়ায় যে, জয় ১ হাজার ৪০০ নয় ৮০০ মানুষকে যে তাদের সরকার হত্যা করেছে সেটা স্বীকার করে নিলেন। যেহেতু স্বাস্থ্য উপদেষ্টাকে তিনি উদ্ধৃত করছেন যে, ৮০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং তিনি বলেন নাই যে হত্যা করা হয় নাই। তার মানে হচ্ছে ৮০০ মানুষকে যে তারা হত্যা করেছেন সেটা তারা স্বীকার করে নিলেন।
গোলাম মোর্তোজা বলেন, জয় আরও বলেছেন প্রতিটি হত্যাই দুঃখজনক এবং সেটার তদন্ত ও বিচার হওয়া দরকার। খুবই সঠিক কথা এবং সেই কারণেই বলছি যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এখন সেই কাজটিই করছে। তদন্ত করছে, বিচারিক প্রক্রিয়া একই সঙ্গে চলছে। সুতরাং জয় যা বলছে সেটাই বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার করছে।
তিনি বলেন, জয় আরেকটি কথা বলেছেন যে তাদের সরকার অর্থাৎ শেখ হাসিনার সরকার জুলাই আগস্টের আন্দোলন বা গণঅভ্যুত্থান মোকাবেলায় কিছু মিসটেক করেছে। তিনি শব্দটি বলেছেন ‘কিছু মিসটেক’। ধারণা করি যে তিনি শব্দটি ইংরেজিতেই বলেছেন। মিসটেক মানে হচ্ছে ভুল, বাংলা করলে দাঁড়ায় ভুল। মানে তারা ভুল করেছে ৮০০ মানুষ হত্যা করে।
তিনি আরও বলেন, ধরে নিচ্ছি যে জয়ের কথাই সত্য। সেহেতু তিনি ৮০০ মানুষ হত্যার দায় স্বীকার করছেন। তার মানে হচ্ছে ৮০০ মানুষকে হত্যা করা তাদের কাছে কোট আনকোট ‘সরকারের মিসটেক’। শুধুমাত্র একটি ভুল। কি ভয়াবহ কথা! আপনি ভুল করে ৮০০ মানুষকে হত্যা করলেন, গুলি করে সেনাবাহিনীকে দিয়ে র্যাবকে দিয়ে পুলিশকে দিয়ে বিজিবিকে দিয়ে নিজেদের ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীদেরকে, সন্ত্রাসীদেরকে দিয়ে।
গোলাম মোর্তোজা বলেন, এখন প্রশ্ন আসে যে ৮০০ মানুষকে হত্যা করার পর এখন আপনি বলছেন একটা ইনক্লুসিভ ইলেকশন। আচ্ছা এটাও ধরে নিলাম এরকম একটা ইলেকশন হওয়া দরকার আপনি যেভাবে চাচ্ছেন। আপনার মা যিনি ভারতে বসে আছেন তিনি কি নির্বাচনে অংশ নিতে চাইছেন? বলছেন যে আমাকে সুযোগ দাও। আমি ৮০০ মানুষকে হত্যা করেছি। তারপরও বাংলাদেশের মানুষের কাছে আসব, এসে আমি ইলেকশন করব, দল গোছাব, তিনি কি তা বলছেন? তিনি তো তা বলছেন না। তিনি বাংলাদেশের মানুষকে বলছেন ময়লা। তিনি বলছেন, ধরে ধরে ময়লা সাফ করবেন। মানে বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করবেন। গণ-আন্দোলনের যারা নেতা তাদেরকে ধরে ফাঁসি দেবেন।
তিনি বলেন, আপনি বলছেন আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। আর আপনার মা বাংলাদেশের মানুষকে হত্যা করতে চাইছেন। ৮০০ মানুষকে হত্যা করেছেন আরও মানুষকে হত্যা করতে চাইছেন। বিচার প্রক্রিয়াটা চলুক, বিচার প্রক্রিয়া শেষ হোক। তারপর যদি মনে হয় আপনারা বাংলাদেশের ইলেকশনে আসবেন, বাংলাদেশে রাজনীতি করবেন, তাহলে তখনকার প্রেক্ষাপটে অবশই সেটা বিবেচনা করা হবে। বাংলাদেশের মানুষই সেটা বিবেচনা করে দেখবে।


