পুরান ঢাকার আরমানিটোলায় ছুরিকাঘাতে নিহত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা জোবায়েদ হোসেনের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (২০ অক্টোবর) বাদ যোহর নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ প্রাঙ্গণে ময়নাতদন্ত শেষে জোবায়েদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ অন্যান্যরা।
জোবায়েদের সহপাঠীরা জানিয়েছেন, জানাজা শেষে তার মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সেক্রেটারি নাসির উদ্দীন নাসির বলেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক জুবায়েদ হোসেনের মৃত্যুতে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল পরিবার থেকে সমবেদনা জানাচ্ছি। এটি পরিকল্পিত একটি হত্যাকাণ্ড। এর আগে সাম্যকেও একইভাবে হত্যা করা হয়েছে। যেসব শিক্ষক গ্রেফতারের জন্য গতদিন লড়েছেন তাদের জন্য শ্রদ্ধা। আমরা বিশ্বাস করি, খুব দ্রুত আসামিরা গ্রেপ্তার হবে। আমরা তার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করি।
শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রইস উদ্দিন বলেন, তার অকালে চলে যাওয়া আমরা মেনে নিতে পারছি না। তার মাথায় আমি সমাবর্তনের গাউন তুলে দেওয়ার কথা, মাথায় ক্যাপ তুলে দেওয়ার কথা কিন্তু তার মৃতদেহ নিয়ে সামনে দাঁড়াতে হচ্ছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমার শিক্ষার্থীর মরদেহ কেন সিঁড়িতে পড়ে থাকবে। আমরা হতাশ হয়েছি প্রশাসনের এ হীন আচরণে।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, আমার ছাত্র জুবায়েদকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, যেটা মোটেও কাম্য নয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, অতিদ্রুত অপরাধীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক। জুবায়েদ অনেক ভালো ছেলে। মাঝে মাঝে আমার রুমে আসতো। তার মতো ছেলের শত্রুই হতে পারে না।
এর আগে রোববার (১৯ অক্টোবর) খুনীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বংশাল থানার সামনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি তারা তাঁতিবাজার মোড় অবরোধ করে রাখে। রোববার রাত ১১টার দিকে ওই ছাত্রী বর্ষাকে হেফাজতে নেয় পুলিশ। এর আগে রাত ১০টা ৫০ এর সময় খুনের শিকার জোবাইদ হোসাইনের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য মিডফোর্ড হাসপাতালে নেয় পুলিশ।
জানা যায়, জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯- ২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। একই সাথে তিনি কুমিল্লা জেলা ছাত্র কল্যাণ সমিতির সভাপতি ও শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সদস্য ছিলেন। গত এক বছর ধরে জোবায়েদ হোসেন পুরান ঢাকার আরমানিটোলা ১৫, নুরবক্স লেনে রৌশান ভিলা নামের বাসায় বর্ষা নামের এক ছাত্রীকে ফিজিক্স ক্যামেস্ট্রি ও বায়োলজি পড়াতেন।
সোমবার সকালে বংশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, জোবায়েদের ছাত্রী বর্ষার সঙ্গে মাহির নামে একটি ছেলের ৯ বছরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্প্রতি বর্ষা মাহিরকে জানায়, সে তার শিক্ষক জোবায়েদকে পছন্দ করে। এটা জেনে মাহির ও তার বন্ধু মিলে খুন করেছে জোবায়েদকে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা এ তথ্য জানিয়েছেন।


