সর্বশেষ সরকার দুটি অনাস্থা প্রস্তাবের মুখোমুখি হয়ে পতনের আশঙ্কায় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো পদত্যাগের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং বিরোধীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন। এই সংকটকে বিশ্লেষকরা বলছেন, ফ্রান্সের সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে জটিল রাজনৈতিক অচলাবস্থা।
সোমবার ১৩ অক্টোবর দ্য স্ট্রেইট টাইমস এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
বর্তমানে ফরাসি সংসদ তিনটি ভিন্ন মতাদর্শিক ব্লকে বিভক্ত, আর সংখ্যালঘু সরকার ঘাটতি কমানোর লক্ষ্যে বাজেট পাস করাতে হিমশিম খাচ্ছে। গত দুই বছরে ম্যাক্রো ইতোমধ্যেই পাঁচজন প্রধানমন্ত্রীকে পরিবর্তন করেছেন। বিরোধীরা মনে করছে, বর্তমান অচলাবস্থা কাটাতে ম্যাক্রোঁর উচিত নতুন আইনসভা নির্বাচন ডাকা বা পদত্যাগ করা তবে প্রেসিডেন্ট দুটিই করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
শনিবার মিশরে গাজা যুদ্ধের অবসান নিয়ে আলোচনার উদ্দেশে পৌঁছানোর পর সাংবাদিকদের ম্যাক্রো বলেন, আমি ধারাবাহিকতা ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করি এবং তা অব্যাহত রাখব। প্রেসিডেন্টের ম্যান্ডেট মানে হলো সেবা করা, সেবা করা এবং সেবা করা।
১০ অক্টোবর ম্যাক্রো পুনরায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেন সেবাস্তিয়ান লেকর্নুকে, যিনি সপ্তাহের শুরুতেই পদত্যাগ করেছিলেন। ১২ অক্টোবর রাতে লেকর্নুর নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার নাম ঘোষণা করা হয়, যেখানে তিনি নবীকরণ ও বৈচিত্র্য আনতে চেয়েছেন।
কিন্তু পরদিন, ১৩ অক্টোবর, কট্টর বামপন্থী ফ্রান্স আনবোউড ও কট্টর ডানপন্থী ন্যাশনাল র্যালি (আরএন) উভয় দলই সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দাখিল করে। এই প্রস্তাবগুলোর ওপর ভোট ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে পারে। লেকর্নুর টিকে থাকা এখন অনেকাংশে নির্ভর করছে সমাজতান্ত্রিকদের সমর্থনের ওপর। যারা এখনো তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেনি।
সমাজতান্ত্রিক নেতা ফিলিপ ব্রুন বলেন, প্রধানমন্ত্রী যদি ৪৯.৩ ধারা ব্যবহার না করে পেনশন সংস্কার স্থগিত করার প্রতিশ্রুতি দেন, তাহলে আমরা অনাস্থা আনব না। তিনি উল্লেখ করেন, এই ধারা ভোট ছাড়াই সংসদে আইন পাসের সুযোগ দেয়।
লেকর্নু ইতোমধ্যেই ইঙ্গিত দিয়েছেন, যদি তিনি সংসদের আস্থা না পান, তবে আবারও পদত্যাগের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া ও বাজেট সংকট আরএন পার্টির সভাপতি জর্ডান বারডেলা বলেন, আমি কোনও পক্ষপাতদুষ্ট নই। কিন্তু ফ্রান্সের স্বার্থ এখন এই ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁকে তার পথে থামানো।
নবগঠিত মন্ত্রিসভা ১৩ অক্টোবর বিকেলে প্রথম বৈঠকে বসবে এবং ১৫ অক্টোবরের মধ্যে নতুন বাজেট উপস্থাপন করবে।
ফ্রান্স বর্তমানে ইউরোজোনের মধ্যে সবচেয়ে বড় বাজেট ঘাটতির মুখে রয়েছে।
এর আগে ধারাবাহিকভাবে প্রধানমন্ত্রী মিশেল বার্নিয়ার ও ফ্রাঁসোয়া বেয়রু বাজেট ঘাটতি কমানোর প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ক্ষমতাচ্যুত হন।


