ইরানি তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারতের নয়টি কোম্পানি এবং আট নাগরিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
আজ (১১ অক্টোবর) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর ও অর্থ বিভাগের ফরেন অ্যাসেটস কন্ট্রোল অফিস (ওএফএসি) যৌথভাবে এই নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দেয়।
মার্কিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এসব ভারতীয় কোম্পানি ইরানি উৎপাদিত পেট্রোলিয়াম ও পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের ক্রয়-বিক্রয়ের মাধ্যমে তেহরানের ওপর আরোপিত আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ভঙ্গ করেছে। তারা গত কয়েক বছর ধরে কোটি কোটি ডলার মূল্যের ইরানি পণ্য আমদানি করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা ভারতীয় কোম্পানিগুলোর মধ্যে রয়েছে— মুম্বাইভিত্তিক সিজে শাহ অ্যান্ড কোং, কেমোভিক, মোডি কেম, পারিচেম রিসোর্সেস, ইন্ডিসল মার্কেটিং, হরেশ পেট্রোকেম এবং শিব টেক্সচেম, দিল্লিভিত্তিক বিকে সেলস কর্পোরেশন।
পররাষ্ট্র দফতরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এসব সংস্থা ইরানের পেট্রোকেমিক্যাল খাতের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করেছে এবং তা আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রি করেছে।
এ ছাড়া পাঁচ ভারতীয় নাগরিক— পীযূষ মাগনলাল জাভিয়া (পরিচালক, কেমোভিক), নীতি উন্মেশ ভট্ট (পরিচালক, ইন্ডিসল মার্কেটিং), কমলা কাসাত, কুণাল কাসাত ও পুনম কাসাত (পরিচালক, হরেশ পেট্রোকেম)—এর নাম রয়েছে নিষেধাজ্ঞার তালিকায়।
ওএফসির প্রকাশিত আলাদা তালিকায় আরও তিন ভারতীয় নাগরিক— বরুণ পুলা, আয়াপ্পান রাজা ও সোনিয়া শ্রেষ্ঠা—এর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা ইরানি তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পরিবহনকারী জাহাজগুলোর সঙ্গে ব্যবসায়িকভাবে যুক্ত ছিলেন।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ইরানের তেলখাতের মাধ্যমে তেহরানের রাজস্ব প্রবাহ রোধ করা এবং আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর প্রচেষ্টা ঠেকানো।
মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা এমন সব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে থাকব, যারা ইরানের তেল ও পেট্রোকেমিক্যাল খাতকে সহায়তা করে তেহরানের অবৈধ কর্মকাণ্ডে অবদান রাখছে।
তবে ভারত সরকার এখনো এই নিষেধাজ্ঞা বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।


