চলচ্চিত্রে এসেছিলেন ভিলেন হয়ে। এরপর হয়ে যান নায়ক! বলছি প্রয়াত চিত্রনায়ক জসিমের কথা। একসময়ের তুমুল জনপ্রিয় এই চলচ্চিত্র অভিনেতার মৃত্যুদিন ৮ অক্টোবর। বৃহস্পতিবার ২৭ বছর পূর্ণ হলো জসিম নেই।
তবে শারীরিকভাবে না থাকলেও বাংলার হাজারও দর্শক, ভক্ত অনুরাগীদের মনে বেঁচে আছেন এই চিত্রনায়ক। তাইতো তাকে স্মরণ করে আজও সোশাল মিডিয়ায় তার সিনেমা নিয়ে কথা বলতে দেখা যায় এই প্রজন্মকে।
১৯৯৮ সালের আজকের এই দিনে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে মারা যাওয়া এই অ্যাকশন হিরোর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে চলচ্চিত্রপ্রেমীরা যেমন স্মরণ করছেন, তেমনি প্রবীন নবীন প্রজন্মের শিল্পীরাও তাকে প্রতি বছর স্মরণ করে।
জসিম তার সমকালে একমাত্র নায়ক, যিনি একাধারে অ্যাকশন দৃশ্য করে হাততালি কুড়িয়ে নিতেন আবার ইমোশনাল দৃশ্যে দর্শকদের আবেগে জড়াতেন। নীরবে অশ্রুবিয়োগের জন্য তার অভিনয় ছিলো সাবলীল।
দেওয়ান নজরুল পরিচালিত ‘দোস্ত দুশমন’ সিনেমাতে অভিনয়ের মাধ্যমে তার চলচ্চিত্র জীবন শুরু হয়। ‘দোস্ত দুশমন’ হিন্দি ‘শোলে’ সিনেমার রিমেক। এখানে জসিম গব্বর সিংয়ের খলনায়ক চরিত্রটি রূপদান করে ব্যাপক আলোচিত হন। এরপর খলনায়ক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন একক রাজত্ব করেন ঢালিউডে।
এর বেশ কয়েক বছর পর দেলোয়ার জাহান ঝন্টুর পরিচালনায় ‘সবুজ সাথী’ চলচ্চিত্রে প্রথম নায়ক চরিত্রে অভিনয় করেন। জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় আশির দশকের প্রায় সকল জনপ্রিয় নায়িকার বিপরীতেই অভিনয় করেছেন এই অ্যাকশন হিরো! তবে শাবানা-রোজিনার সঙ্গে তার জুটিই সবচেয়ে বেশি দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তাকে শোষিত-বঞ্চিত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে দেখা যেত।
চিত্রনায়ক জসিম ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে একজন সৈনিক হিসেবে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেন। দুই নম্বর সেক্টরে মেজর হায়দারের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধে লড়েছেন তিনি। ১৯৭৩ থেকে তার অভিনয় জীবন শুরু। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি দাপটের সঙ্গে অভিনয় করে গেছেন।
জসিমের প্রথম স্ত্রী ছিলেন নায়িকা সুচরিতা। পরে তিনি ঢাকার প্রথম সবাক সিনেমার নায়িকা পূর্ণিমা সেনগুপ্তার মেয়ে নাসরিনকে বিয়ে করেন। জসিমের আসল নাম আবদুল খায়ের জসিম উদ্দিন। খলনায়ক ও নায়ক দুই চরিত্রেই উজ্জ্বল নক্ষত্র জসিম। তিনিই একমাত্র নায়ক, যিনি শাবানার সাথে একই সাথে প্রেমিক এবং ভাইরূপে চরিত্রদান করেছিলেন এবং দুটি চরিত্রই দর্শকেরা খুব সাদরে গ্রহণ করেছিলেন ।
জসিম রেখে গেছেন তিন ছেলে— সামী, রাতুল, রাহুল। গেল জুলাইতে মেজ ছেলে রাতুল মারা গেছেন। তিনি ছেলেই সংগীতের সাথে যুক্ত। ছোট ছেলে রাহুল বাবার মৃত্যুদিনে স্মরণ করেন।
ফেসবুকে জসিম অভিনীত একটি সিনেমার ছবি দিয়ে রাহুল লিখেন,“আব্বু আমাদের ছেড়ে গেছেন ২৭ বছর হলো! আপনি শুধু একজন কিংবদন্তী অভিনেতাই নন, আপনি আমার বাবা— আর জাতি আজও আপনাকে ভালোবাসা ও গর্বের সঙ্গে স্মরণ করে।”
এরপর তিনি লিখেন,“আপনার উত্তরাধিকার আজও বেঁচে আছে প্রতিটি হৃদয়ে, যাদের আপনি পর্দায় ও পর্দার বাইরে ছুঁয়ে গেছেন। আশা করি, একদিন আপনাকে গর্বিত করতে পারব!” বাবা অ্যাকশন হিরো ছিলেন বলেই রাহুল শেষে মজা করে লিখেন, ‘দিশুমাইক্ক’!


