২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের সব রাজনৈতিক শক্তির ঐকমত্যের ভিত্তিতে ঐতিহাসিক জুলাই সনদ প্রণয়নের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে এতে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত সকল দলের মতামত নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এর গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) জনতা পার্টি বাংলাদেশের কার্যালয়ে বিকল্প রাজনৈতিক জোট গঠনের ধারাবাহিক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা এ মত প্রকাশ করেন।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসীন রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভাটি সঞ্চালনা করেন জনতা পার্টি বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান গোলাম সারোয়ার মিলন।
নেতারা বলেন, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ করতে হলে নির্বাচন কমিশনকে রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া সহজ ও উদার করতে হবে। জুলাই বিপ্লবের পর এক-এগারোর সরকার প্রণীত নিবন্ধন বিধি কার্যকর থাকতে পারে না। এছাড়া নির্বাচন কমিশনকে তার নিরপেক্ষতার প্রমাণও দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ বলেন, বাংলাদেশে এখন একটি পরিণত রাজনৈতিক জোট গড়ে তোলা অপরিহার্য। ইসলামী মূল্যবোধ সামনে রেখে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সুশাসন ও ইনসাফ ভিত্তিক সমাজের কথা গুরুত্ব দিয়ে বলতে হবে। ভূ-রাজনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সম্বন্ধে মানুষকে সুস্পষ্ট ধারণা দিতে হবে।
গোলাম সারোয়ার মিলন বলেন, শুধু কয়েকটি দলকে নিয়ে ঐকমত্য কমিশন জুলাই সনদ চূড়ান্ত করলে তা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এই রাজনৈতিক অঙ্গীকারের দলিলে সর্বজনীনতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তা নাহলে অভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিগুলোর মধ্যেই এ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মহাসচিব প্রশ্ন তোলেন, ঐকমত্য কমিশনের ডাকা ৩১ দলের মধ্যে নিবন্ধিত দল কয়টি? তিনি বলেন, নিবন্ধন হচ্ছে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ছাড়পত্র। কিন্তু মতামত প্রদানের ছাড়পত্র নয়।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের, জাগপা সভাপতি মহিউদ্দিন বাবলু, জনতা পার্টি বাংলাদেশের ভাইস চেয়ারম্যান এবিএম ওয়ালিউর রহমান খান, মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, এম এ ইউসুফ, বাংলাদেশ জনতা ফ্রন্টের চেয়ারম্যান আবু আহাদ আল মামুন (দ্বীপু মীর), জনতা পার্টি বাংলাদেশের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক বশির আহমেদ ও স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহ মো. সোলায়মান প্রমুখ।


