স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, ইসলামে বলা হয়েছে-যার যার ধর্ম, তার তার কাছে। এখানে সম্প্রীতিটাই মুখ্য।
তিনি বলেন, মানবতাই ধর্ম, সেবাই ধর্ম। আমরা যদি এই কথাটা মনে রাখি, তাহলে বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেউ কোনোদিন নষ্ট করতে পারবে না। এটাই আমাদের সবার বিশ্বাস।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার বনানীর কামাল আতাতুর্ক এভিনিউয়ে স্থাপিত ‘গুলশান-বনানী পূজা প্যান্ডেল’ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা আরো বলেন, সারা দেশে উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্যে পূজা চলছে। আজ বিজয়া দশমী। বিষাদের সময় সবারই মন খারাপ হওয়ার কথা। কিন্তু গত কয়েকদিন ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাসের মধ্যে পূজা উদযাপন করা হয়েছে। আমি নিজেও দুর্গাপূজার আনন্দ ভাগাভাগি করতে এখানে এসেছি।
এ সময় পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জিতেন্দ্র লাল ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক অসিম জোয়ারদারসহ উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীরা গুলশান ও বনানী এলাকায় পূজা-অর্চনা পালনের জন্য স্থায়ীভাবে জায়গা বরাদ্দের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে হাইপারটেনশন (উচ্চ রক্তচাপ) বিষয়ক সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে নুরজাহান বেগম বলেন, উচ্চ রক্তচাপ শুধু ডাক্তার কিংবা সরকারের বিষয় নয়। এটা আমাদের সবার বিষয়। হাইপারটেনশন কেন হয়, এটা প্রতিরোধ করা দরকার। আমরা কিন্তু প্রতিরোধে যাচ্ছি না।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টা বলেন, তামাক আমাদের শেষ করে দিতে পারে। ওষুধ কোম্পানিগুলো নানাভাবে তাদের উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ঢুকে যাচ্ছে এবং অধিকতর মুনাফা তারা করছে। আমরা যদি তামাক নিয়ন্ত্রণ করতে পারি, তাহলে আমাদের চিকিৎসা ব্যয়ে যে ৭১ শতাংশ পকেট থেকে খরচ হয়ে যায়, কিসের জন্য? ডায়াবেটিস, হাইপারটেনশন এবং ক্যানসার। এগুলো অসংক্রামক রোগ। চিকিৎসা তো আমরা করবোই, সরকারের দিক থেকে সরকার চেষ্টা করবে, যাতে চিকিৎসা সঠিকভাবে সবার কাছে পৌঁছায়।
তিনি আরও বলেন, কিন্তু জনগণের একটা দায়িত্ব আছে। আমি, আপনি, সবাই মিলে এটাকে কীভাবে প্রতিরোধ করবো, মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। মানুষ সচেতন হলে এই রোগে আমাদের খুব বেশি বেগ পোহাতে হবে না। যারা গণমাধ্যমে কাজ করছেন, তাদেরও অনেক বড় দায়িত্ব যেন এ রোগগুলো আমাদের মধ্যে দানা বাঁধতে না পারে, সেই সচেতনতা তৈরি করতে হবে।
পূজা মণ্ডপ পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টার সাথে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবু জাফর, স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন, গুলশান-বনানী পূজা উদযাপন কমিটির সভাপতি জিতেন্দ্র নাথ ভৌমিক ও সাধারণ সম্পাদক অসিম জোয়ারদার।


