লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: বেশি কিছু না খেয়েও পেট ফুলে যাওয়া, টানটান হওয়া বা অস্বস্তি বোধ করা আজকাল একটি সাধারণ হজমজনিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকেই ভাবেন কেবল ভারী বা তৈলাক্ত খাবার খেলেই পেট ফাঁপে, তবে দৈনন্দিন রুটিনের বেশ কিছু অভ্যাস, মানসিক চাপ এবং নির্দিষ্ট কিছু খাবারের কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। চলুন জেনে নেওয়া যাক পেট ফাঁপার সম্ভাব্য ৬টি মূল কারণ:
১. খুব দ্রুত খাওয়া: তাড়াহুড়ো করে বা ১০ মিনিটেরও কম সময়ে খাবার খেলে খাবারের সঙ্গে প্রচুর বাতাস পেটে প্রবেশ করে। এছাড়া খাবার ভালোভাবে চিবানো না হলে হজমে ব্যাঘাত ঘটে, যা পেটে গ্যাস ও অস্বস্তির সৃষ্টি করে। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো—খাবার ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া এবং খাওয়ার সময় কথা না বলা।
২. অতিরিক্ত ‘স্বাস্থ্যকর’ খাবার গ্রহণ: মটরশুঁটি, ব্রকলি, বাঁধাকপি বা মসুর ডালের মতো খাবারে প্রচুর ফাইবার ও কার্বোহাইড্রেট থাকে। এগুলো স্বাস্থ্যকর হলেও হঠাৎ বেশি পরিমাণে খেলে গ্যাস হতে পারে। তাই খাবারে ফাইবার যোগ করতে হবে ধীরে ধীরে, যাতে অন্ত্র এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
৩. দুগ্ধজাত পণ্যের প্রতি সংবেদনশীলতা: দুধ, পনির বা আইসক্রিম খাওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর যদি পেট ফুলে যায়, তবে তা ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স বা দুগ্ধজাত পণ্যের প্রতি সংবেদনশীলতার লক্ষণ হতে পারে। সাময়িকভাবে কয়েকদিন এসব খাবার এড়িয়ে চললে এই সমস্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়।
৪. কৃত্রিম মিষ্টি ও কার্বনেটেড পানীয়: কোমল পানীয় পরিপাকতন্ত্রে অতিরিক্ত গ্যাস তৈরি করে। এছাড়া বিভিন্ন খাবারে ব্যবহৃত কৃত্রিম মিষ্টি (যেমন: সরবিটল ও জাইলিটল) সহজে হজম হয় না। এর বদলে সাধারণ পানি বা ভেষজ চা পান করলে পেট ফাঁপার সমস্যা দ্রুত কমে আসে।
৫. হরমোনের ওঠানামা: অনেক নারীর ক্ষেত্রে মাসিকের আগে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে শরীরে পানি জমে যায় এবং হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে পড়ে, যার ফলে পেট ফাঁপার সমস্যা বাড়ে। পুরো চক্রজুড়ে এই লক্ষণগুলো খেয়াল রাখলে আসল কারণটি বোঝা সহজ হয়।
৬. মানসিক চাপ ও উদ্বেগ: মস্তিষ্ক ও অন্ত্রের মধ্যে গভীর সম্পর্ক রয়েছে। মানসিক চাপে থাকলে হজমশক্তি হ্রাস পায় এবং খাবার অন্ত্রে বেশিক্ষণ থেকে যায়, যা গ্যাস তৈরি করে। তাই পর্যাপ্ত ঘুম, শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং মানসিক চাপমুক্ত থাকার মাধ্যমে এই সমস্যা দূর করা সম্ভব।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






