আসামের জনপ্রিয় শিল্পী জুবিন গার্গের মৃত্যুর প্রায় এক মাস হতে চললো। তবুও যেন শান্ত হচ্ছে না আসামের পরিস্তিতি। প্রথমে প্রিয় শিল্পীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন আসামবাসী। এর মধ্যে জুবিনের মৃত্যু ঘিরে নানা গুঞ্জন চাউর হয়।
এরপর থেকেই বিচারের দাবিতে সোচ্চার ভক্তরা। তবে বুধবার (১৫ অক্টোবর) পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। সেটা এতটাই যে পুলিশকে ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল ছুঁড়তে হয়।
বুধবার (১৫ অক্টোবর) জুবিন গার্গের মৃত্যুর মামলায় গ্রেপ্তার পাঁচ অভিযুক্ত ব্যক্তিকে জেলা কারাগারে আনা হয়। এরপরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গাড়ি জেলের ফটকে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ভক্তরা বিক্ষোভ শুরু করেন। মুহূর্তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভক্তরা অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বহনকারী গাড়িতে পাথর নিক্ষেপ শুরু করেন। এতে বেশ কয়েকটি গাড়ি, এমনকি একটি পুলিশ ভ্যানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গ্রেপ্তার পাঁচজন হলেন সংগঠক শ্যামকানু মহন্ত, গায়কের ম্যানেজার সিদ্ধার্থ শর্মা, চাচাতো ভাই ও বরখাস্ত এপিএস কর্মকর্তা সন্দীপন গার্গ এবং দুই নিরাপত্তাকর্মী; যাদের মধ্যে একজনের নাম নন্দেশ্বর বরা। এদিন বিকেলেই বিচারক তাদের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বহনকারী গাড়িবহর জেল চত্বরে ঢোকার সময় ‘জাস্টিস ফর জুবিন’ স্লোগান দিতে দিতে শত শত ভক্ত ভিড় জমান। হঠাৎই বিক্ষোভকারীরা সহিংস হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে পুলিশ আকাশে গুলি ছুড়ে ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে ভিড় ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে।
এর মধ্যে পুলিশের একটি গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে প্রশাসন। জেলার বিভিন্ন সংবেদনশীল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে আছে, তবে উত্তেজনা এখনো বিরাজ করছে।’
জুবিন গার্গ ১৯ সেপ্টেম্বর সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় মারা যান। তার বয়স হয়েছিল ৫২ বছর। পরের দিনই তার নর্থ ইস্ট ফেস্টিভ্যালে পারফর্ম করার কথা ছিল। সেদিন স্কুবা ডাইভিংয়ের সময় জুবিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। দ্রুত তাকে কাছের হাসপাতালে নেওয়া হলেও তাকে বাঁচানো যায়নি। আকস্মিক এই মৃত্যুতে আসাম ও সমগ্র ভারতের সংগীতজগতে শোকের ছায়া নেমে আসে। – ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


