ক্যারিবিয়ান সাগরে গত দুই মাস ধরে যুদ্ধজাহাজ, বোমারু বিমান, মেরিন, ড্রোন ও গুপ্তচর বিমান মোতায়েন করে ব্যাপক সামরিক উপস্থিতি জোরদার করছে যুক্তরাষ্ট্র। এটিকে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতা থেকে সরাতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের এক ধরনের চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ (২৫ অক্টোবর) শনিবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে অন্তত ১০টি মার্কিন যুদ্ধজাহাজ অবস্থান করেছে। এর মধ্যে রয়েছে গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, উভচর আক্রমণ জাহাজ ও জ্বালানিবাহী ট্যাংকার। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড, বিশ্বের সবচেয়ে বড় যুদ্ধজাহাজ ইতোমধ্যেই অঞ্চলটির পথে রয়েছে।
একই সঙ্গে দীর্ঘ পাল্লার বি-৫২ বোমারু বিমান ভেনেজুয়েলা উপকূলে “বোম্বার আক্রমণ প্রদর্শন” চালিয়েছে। মার্কিন সামরিক সূত্র জানায়, ভেনেজুয়েলা থেকে আসা ছোট নৌযানগুলোতে মাদক বহন ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমের অভিযোগে হামলা চালানো হয়েছে যদিও এর কোনো প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়নি। এই হামলায় বহু মানুষ নিহত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এটি মাদকবিরোধী অভিযান। তবে ল্যাটিন আমেরিকার বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আসল উদ্দেশ্য মাদুরো সরকারকে ভয় দেখানো ও তার সেনাবাহিনীর ভেতর বিভাজন সৃষ্টি করা। চ্যাথাম হাউসের লাতিন আমেরিকা বিষয়ক সিনিয়র ফেলো ড. ক্রিস্টোফার সাবাতিনি বলেন, এটি শাসন পরিবর্তনের ইঙ্গিত। সম্ভবত সরাসরি হামলা নয়, বরং ভয় দেখানোর এক প্রচেষ্টা।
ট্রাম্প প্রশাসন এই অভিযানের ব্যাখ্যা দিয়েছে নারকোটিকস বিরোধী যুদ্ধ হিসেবে। তবে বাস্তবে দক্ষিণ আমেরিকায় ফেন্টানিল উৎপাদন হয় না— এটি প্রধানত মেক্সিকো থেকে আসে। ২০২৫ সালের মার্কিন ডিইএ রিপোর্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ হওয়া কোকেনের ৮৪ শতাংশই কলম্বিয়া থেকে আসে, ভেনেজুেলার নাম সেখানে নেই।
তবে এই প্রসঙ্গে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি সিআইএকে ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম চালানোর অনুমোদন দিয়েছেন। যদিও তিনি সরাসরি বলেছেন কিনা যে সিআইএ মাদুরোকে নিশানা করবে— সে প্রশ্ন এড়িয়ে গেছেন।


