বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে ধানমন্ডি এলাকায় সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টা মামলায় ‘আহতদের কোনো খোঁজ না পাওয়ায়’ ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জন আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ গত ৫ নভেম্বর আদালতে এই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। প্রতিবেদনে মামলাটিতে ‘তথ্যগত ভুল’ থাকার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক অদ্ভুত তথ্য। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা আহত ব্যক্তি সাহেদ আলী কিংবা অন্য ৯ ভুক্তভোগীর কোনো অস্তিত্ব বা চিকিৎসার নথিপত্র খুঁজে পাননি তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্তকারী কর্মকর্তা জানান, আহতদের সন্ধানে সীমান্ত স্কয়ার মার্কেট, ঢাকা কলেজ, সিটি কলেজ এবং আশপাশের হাসপাতালগুলোতে চিঠি দিয়েও কোনো তথ্য মেলেনি। এমনকি মামলার বাদী শরীফ, যিনি নিজেকে সাহেদের ভাই বলে দাবি করেছিলেন, তিনিও ভুক্তভোগীকে হাজির করতে বা চিকিৎসার কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন।
বাদীর আচরণ নিয়েও সন্দেহের সৃষ্টি হয়েছে। তদন্তে দেখা যায়, এজাহারে দেওয়া বাদীর হাজারীবাগের ঠিকানাটি ভুয়া। পরে জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে লক্ষ্মীপুরের যে ঠিকানা পাওয়া যায়, সেখানেও তাকে কেউ চেনে না। হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগের পর বাদী একবার ধানমন্ডি লেকের পাড়ে তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করলেও, পরবর্তীতে আর কোনো সহযোগিতা করেননি। সার্বিক পর্যালোচনায় আহতদের অস্তিত্ব প্রমাণ না হওয়ায় এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত কোনো তথ্য না পাওয়ায় শেখ হাসিনাসহ সকল আসামিকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।
অভিযুক্তদের তালিকায় যারা ছিলেন
এই মামলায় শেখ হাসিনাসহ ১১৩ জনকে আসামি করা হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন:
শেখ হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী)
সজীব ওয়াজেদ জয়
ওবায়দুল কাদের
হাছান মাহমুদ
মোহাম্মদ এ আরাফাত
জুনাইদ আহমেদ পলক
জাহাঙ্গীর কবির নানক
মাহবুব উল আলম হানিফ
শামীম ওসমান
ছাত্রলীগ সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।
মামলার সারসংক্ষেপ ও তদন্তের ফলাফল
মামলা দায়ের-৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ (ধানমন্ডি থানা)
অভিযোগ-৪ আগস্ট ২০২৪-এ সাহেদ আলীসহ ১০ জনকে হত্যাচেষ্টা
তদন্ত সংস্থা-পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)
তদন্ত কর্মকর্তা-পরিদর্শক শাহজাহান ভূঞাঁ
প্রতিবেদন দাখিল-৫ নভেম্বর (চূড়ান্ত প্রতিবেদন – তথ্যগত ভুল)
মূল কারণ-আহতদের খুঁজে না পাওয়া ও বাদীর অসহযোগিতা
পরবর্তী শুনানি-৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
বাংলাফ্লো/এফআইআর






