বলিউডের কিংবদন্তী কৌতুক অভিনেতা আসরানি আর নেই। তাকে বলা হত বলিউডের হাসির রাজা! বার্ধক্যজনিত কারণে সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে তিনি মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৪ বছর!
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, সোমবার মুম্বাইয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন গোবর্ধন আসরানি, যিনি দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বলিউডে হাস্যরসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে ছিলেন।
তার অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক পোস্টে লেখা হয়—
“হাসির রাজা আসরানি জির মৃত্যুসংবাদ আমাদের গভীর শোকে নিমজ্জিত করেছে। তার অনন্য অভিনয়, সরলতা ও রসবোধ ভারতীয় সিনেমাকে দিয়েছে এক নতুন পরিচয়। প্রতিটি চরিত্রে যে প্রাণ তিনি সঞ্চার করেছেন, তা চিরকাল আমাদের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে। তার প্রস্থান শুধু চলচ্চিত্র জগতের নয়, তাদের সবার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি যারা তার অভিনয়ে একবার হলেও হেসেছেন।”
সংবাদ সংস্থা এএনআই জানায়, সোমবার বিকেল ৪টায় মুম্বাইয়ের আরোগ্যনিধি হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। তার ম্যানেজার বাবুভাই থিবানি জানিয়েছেন, অনেক দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন আসরানি। তিনি তাঁর স্ত্রী মঞ্জুকে নির্দেশ দিয়ে গিয়েছেন, তাঁর শেষকৃত্যে যেন প্রচুর মানুষ ভিড় না করেন। অভিনেতার শেষ ইচ্ছাকে সম্মান জানিয়েই ঘনিষ্ঠ আত্মীয় ও পরিজনের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার মুম্বাইয়ে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।
দীর্ঘ সফল ক্যারিয়ারে আসরানি ছিলেন হিন্দি সিনেমার সবচেয়ে প্রিয় মুখগুলোর একজন। নিখুঁত টাইমিং ও অসাধারণ উপস্থিতির জন্য তিনি পরিচিত ছিলেন। পাঁচ দশকে তিনি ৩৫০টিরও বেশি ছবিতে অভিনয় করেছেন।
তিনি ১৯৬০-এর দশকে অভিনয় জীবন শুরু করেন এবং ১৯৭০-এর দশকে পৌঁছে যান ক্যারিয়ারের শিখরে, যখন তিনি বলিউডের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য চরিত্রাভিনেতাদের একজন হয়ে ওঠেন।
তার স্মরণীয় চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে মেরে আপনে, কোশিশ, বাবার্চি, পরিচয়, অভিমান, চুপকে চুপকে, ছোটিসি বাত ও রফু চাক্কার। এছাড়া ভূল ভুলাইয়া, ধমাল, বান্টি অর বাবলি ২, আর… রাজকুমার, অল দ্য বেস্ট ও ওয়েলকাম ছবিতেও তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করেছেন।
তবে তার সবচেয়ে আইকনিক চরিত্র ছিল ১৯৭৫ সালের ক্লাসিক শোলে সিনেমায় অদ্ভুত স্বভাবের জেলওয়ার্ডেন হিসেবে, যা আজও ভারতীয় পপ সংস্কৃতির অংশ হিসেবে বেঁচে আছে।
দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, আসরানি ১৯৪১ সালের ১ জানুয়ারি জয়পুরে জন্মগ্রহণ করেন।
বলিউডের বহু তারকা তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং জানিয়েছেন, কীভাবে আসরানি তাদের জীবনে ও শিল্পে স্থায়ী প্রভাব রেখে গেছেন।


