আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ভেনিজুয়েলার সঙ্গে দীর্ঘদিনের বৈরি সম্পর্কের বরফ গলতে শুরু করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভেনিজুয়েলার তেল বিক্রির বকেয়া পাওনা মেটানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। বুধবার (৪ জানুয়ারি) মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, প্রাথমিক ৫০০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে অবশিষ্ট ২০০ মিলিয়ন ডলার ভেনিজুয়েলাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর আগে এই অর্থের একটি বড় অংশ পরিশোধ করা হয়েছিল। হোয়াইট হাউসের এই পদক্ষেপকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের শীতল বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের মোড় ঘোরানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফেরত দেওয়া এই অর্থ মূলত ভেনিজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএসএ-এর মাধ্যমে সরবরাহ করা তেলের পাওনা ছিল, যা মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে দীর্ঘদিন ধরে আটকে ছিল। সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক আলোচনার ফলস্বরূপ যুক্তরাষ্ট্র এই অর্থ ছাড় করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অত্যন্ত স্বচ্ছতা বজায় রেখে এই লেনদেন সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এর মাধ্যমে ভেনিজুয়েলার অর্থনীতিতে জরুরি নগদ অর্থের প্রবাহ বাড়বে, যা দেশটির ভঙ্গুর অর্থনীতিতে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফেরাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনিজুয়েলার বর্তমান রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংঘাতের পরিবর্তে একটি সমঝোতামূলক পথে এগোতে চাইছে। তেলের অর্থ ফিরিয়ে দেওয়ার এই উদ্যোগ ভেনিজুয়েলার জ্বালানি খাতে মার্কিন বিনিয়োগের পথ আরও প্রশস্ত করতে পারে। বিশেষ করে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং লাতিন আমেরিকার এই দেশটির সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র এখন কৌশলগতভাবে অগ্রসর হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






