ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক উপস্থিতির সহায়তাকে যুদ্ধের উসকানি ও সম্পদ লুণ্ঠনের ষড়যন্ত্র বলে অভিযোগ তুলে প্রতিবেশী দেশ ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ গ্যাস চুক্তি স্থগিত করেছে ভেনেজুয়েলা।
আজ ২৮ অক্টোবর মঙ্গলবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আল জাজিরা জানিয়েছে, সোমবার ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন টেলেসুরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোতে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ অবস্থানের প্রতিক্রিয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে যৌথ গ্যাস সরবরাহ চুক্তি স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন।
ত্রিনিদাদ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস গ্র্যাভলি-কে আতিথ্য দিচ্ছে। জাহাজটি রবিবার রাজধানী পোর্ট অব স্পেনে পৌঁছায় এবং মার্কিন মেরিনদের নিয়ে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নিচ্ছে। ভেনেজুয়েলা বলছে, ক্যারিবীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক উপস্থিতি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অবৈধ ও অনৈতিক হুমকি।
মাদুরো অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র তার দেশের বিপুল তেল ও গ্যাসসম্পদ লুণ্ঠনের উদ্দেশ্যে এই সামরিক অভিযান চালাচ্ছে। তিনি ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর প্রধানমন্ত্রী কমলা পারসাদ-বিসেসারকে উদ্দেশ করে বলেন, তিনি নিজের দেশকে আমেরিকান সাম্রাজ্যের উড়োজাহাজবাহী রণতরীতে পরিণত করেছেন।
অন্যদিকে, কমলা পারসাদ স্থানীয় সংবাদমাধ্যম নিউজডে-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাদুরোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর ভবিষ্যৎ কখনোই ভেনেজুয়েলার ওপর নির্ভর করেনি এবং করবে না। দেশটি ধীরে ধীরে যৌথ ড্রাগন গ্যাসফিল্ড প্রকল্প থেকে সরে আসছে, যা ভেনেজুয়েলার জলসীমায় অবস্থিত।
ভেনেজুয়েলা ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর মধ্যে ২০১৮ সালে ড্রাগন গ্যাসক্ষেত্র উন্নয়ন নিয়ে চুক্তি হয়। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে প্রকল্পটি দীর্ঘদিন ধরে স্থবির হয়ে আছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যভিত্তিক জ্বালানি কোম্পানি শেল এবং ত্রিনিদাদের ন্যাশনাল গ্যাস কোম্পানি যৌথভাবে এ প্রকল্প পরিচালনা করছে।
মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, তারা এই অঞ্চলে অন্তত সাতটি যুদ্ধজাহাজ, একটি সাবমেরিন, ড্রোন ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে, যা মূলত মাদকবিরোধী অভিযান-এর অংশ হিসেবে চালানো হচ্ছে। তবে ভেনেজুয়েলা মনে করছে, এটি আসলে মাদুরো সরকারকে উৎখাতের প্রস্তুতি।


