আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযান চালিয়ে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটকের ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির ‘স্পষ্ট লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের দপ্তরের এক মুখপাত্র গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, একটি স্বাধীন দেশের প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে এমন সামরিক অভিযান আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী।
জাতিসংঘের বিবৃতিতে সাফ জানানো হয়েছে, কোনো রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে হুমকি কিংবা বলপ্রয়োগ করা আন্তর্জাতিক সনদের বিরোধী। যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলা সরকারের দীর্ঘদিনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের দোহাই দিয়ে এই হস্তক্ষেপের যৌক্তিকতা দেখালেও, জাতিসংঘ বলছে—একতরফা সামরিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায় না। বরং ভেনেজুয়েলার জনগণ একটি ন্যায়সঙ্গত ও ভুক্তভোগী-কেন্দ্রিক বিচার প্রক্রিয়ার দাবি রাখে।
এদিকে, ওয়াশিংটনের তত্ত্বাবধানে ডেলসি রদ্রিগেজ ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ায় এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার তেল শিল্পের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। জাতিসংঘ আশঙ্কা করছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই হস্তক্ষেপের ফলে সৃষ্ট অস্থিরতা ও অত্যধিক সামরিকীকরণ দেশটির পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি মধ্যরাতে রাজধানী কারাকাসে অতর্কিত অভিযান চালিয়ে মার্কিন সেনাবাহিনীর ডেল্টা ফোর্স মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে নিয়ে যায়। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের আদালতে ধ্বংসাত্মক ডিভাইস ব্যবহারের অভিযোগে মাদুরোর বিচার প্রক্রিয়া চলছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






