আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন নাগরিকদের মতপ্রকাশে বাধা ও সেন্সরশিপ আরোপের অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সাবেক কমিশনার থিয়েরি ব্রেতোঁসহ পাঁচ হাই-প্রোফাইল ব্যক্তির ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক নজিরবিহীন ঘোষণায় জানিয়েছে, মার্কিন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে ‘চাপ দেওয়ার’ অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক বিবৃতিতে জানান, এই ব্যক্তিরা এবং তাদের সংশ্লিষ্ট বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো (NGO) বিদেশি শক্তির হয়ে সেন্সরশিপ অভিযান চালিয়েছে। রুবিও বলেন, “এসব উগ্রপন্থী কর্মী ও রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত এনজিওগুলো মার্কিন বক্তা ও কোম্পানিগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।” মূলত, নিজেদের অপছন্দের মতামত ঠেকাতে এরা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাপ দিচ্ছিল বলে অভিযোগ যুক্তরাষ্ট্রের।
১. থিয়েরি ব্রেতোঁ: ইউরোপীয় কমিশনের সাবেক এই শীর্ষ কর্মকর্তা ইইউ-এর ‘ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট’ (DSA)-এর মূল কারিগর। ইলন মাস্কের মালিকানাধীন ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিবাদ রয়েছে। ২. ক্লেয়ার মেলফোর্ড: যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংস্থা ‘গ্লোবাল ডিজইনফরমেশন ইনডেক্স’ (GDI)-এর প্রধান। ৩. ইমরান আহমেদ: ‘সেন্টার ফর কাউন্টারিং ডিজিটাল হেট’ (CCDH)-এর সিইও। ৪. আন্না-লেনা ভন হোদেনবার্গ: জার্মান সংস্থা ‘হেইটএইড’-এর কর্মকর্তা। ৫. জোসেফিন ব্যালন: ‘হেইটএইড’-এর কর্মকর্তা।
এই নিষেধাজ্ঞার পেছনে ইলন মাস্ক ও তার প্ল্যাটফর্ম এক্স-এর সঙ্গে ইইউ-এর দ্বন্দ্ব বড় ভূমিকা রেখেছে। ইউরোপীয় কমিশন সম্প্রতি ‘ব্লু টিক’ ইস্যুতে এক্স-কে ১২০ মিলিয়ন ইউরো জরিমানা করেছে। ডিএসএ আইনের আওতায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোকে কনটেন্ট যাচাই-বাছাই করতে হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল গোষ্ঠীগুলো ‘ডানপন্থী মতামতের কণ্ঠরোধ’ বা সেন্সরশিপ হিসেবে দেখছে।
সাবেক ইইউ কমিশনার থিয়েরি ব্রেতোঁ যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে ‘উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়রানি’ বলে মন্তব্য করেছেন। অন্যদিকে, নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়া জিডিআই ও সিসিডিএইচ দাবি করেছে, ট্রাম্প প্রশাসন সরকারের ক্ষমতা ব্যবহার করে ভিন্নমতের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে।বাংলাফ্লো/এফআইআর






