আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরানে চলমান রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভ এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক হামলার হুমকির প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে অনুষ্ঠিত জরুরি বৈঠক উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে তুমুল বাদানুবাদ ও পারস্পরিক দোষারোপের ঘটনা ঘটে।
বৈঠকে জাতিসংঘে ইরানের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি গোলাম হোসেন দারজি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইরানে অস্থিরতা উসকে দেওয়ার সরাসরি অভিযোগ তোলেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান, ইরান কোনো সংঘাত চায় না। তবে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা হামলার মুখে জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ইরান চূড়ান্ত ও আইনানুগ জবাব দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মার্কিন হুমকিকে ‘আইনবহির্ভূত’ আখ্যা দিয়ে এর পরিণতির দায় ওয়াশিংটনের ওপর চাপান তিনি।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি মাইক ওয়াল্টজ ইরানে বিক্ষোভ দমনে সরকারি কঠোর অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করেন। দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের কারণে নিহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইরানের জনগণ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বাধীনতার দাবি জানাচ্ছে। বিক্ষোভকে বিদেশি ষড়যন্ত্র বলাটা আসলে সরকারের ভীতির বহিঃপ্রকাশ।’ তবে এর আগে ট্রাম্প সামরিক হস্তক্ষেপের হুমকি দিলেও, এদিনের বৈঠকে মার্কিন সুর কিছুটা নমনীয় ছিল।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মার্থা পোবি জানান, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন গণ-অভ্যুত্থানে রূপ নিয়েছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, জানুয়ারির মাঝামাঝি পর্যন্ত প্রায় ১৮ হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছে। পোবি এই প্রাণহানির ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত এবং আটকদের মৃত্যুদণ্ড না দেওয়ার আহ্বান জানান। যদিও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
এদিকে, বিক্ষোভ দমনে নিষ্ঠুর ভূমিকা পালনের অভিযোগে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলী লারিজানিসহ শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বৈঠকে ইরানি-আমেরিকান সাংবাদিক মাসিহ আলিনেজাদও ইরান সরকারের দমনপীড়নের বিরুদ্ধে বিশ্ববাসীকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






