গাজা যুদ্ধ অবসানে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতি দ্রুত অগ্রগতির আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার চলমান পরোক্ষ শান্তি আলোচনা সামনে রেখে সোমবার (৬ অক্টোবর) মিশরের কায়রোতে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো।
সোমবার (৬ অক্টোবর) বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
শান্তির প্রথম ধাপেই আলোচনায় অগ্রগতি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে প্রণীত ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্তে সম্মত হয়েছে হামাস, যার মধ্যে রয়েছে জিম্মি মুক্তি ও গাজার প্রশাসন নিরপেক্ষ ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটদের হাতে তুলে দেওয়া। এই ইতিবাচক অগ্রগতিকে সামনে রেখেই কায়রোতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
তবে হামাস এখনও গাজার নিয়ন্ত্রণে তাদের ভবিষ্যৎ ভূমিকা কিংবা নিরস্ত্রীকরণ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি।
এক্স (সাবেক টুইটার) প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক বার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, আমাকে বলা হয়েছে প্রথম ধাপ চলতি সপ্তাহেই শেষ হওয়া দরকার এবং আমি সবাইকে বলেছি দ্রুত এগিয়ে যেতে। তিনি আরও বলেন, “সময়টাই মূল বিষয়—নাহলে ব্যাপক রক্তপাত হবে।”
সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রশ্নোত্তরে ট্রাম্প আশাবাদ ব্যক্ত করেন, জিম্মিদের মুক্তি খুব শিগগিরই শুরু হবে। নমনীয়তা সংক্রান্ত প্রশ্নে তিনি বলেন, “আমাদের নমনীয়তার প্রয়োজন নেই, কারণ সবাই যথেষ্ট একমত হয়েছে। তবে সবসময় কিছু পরিবর্তন আসবেই।” তিনি এটিকে ইসরায়েল, আরব বিশ্ব এবং গোটা বিশ্বের জন্য একটি চমৎকার চুক্তি বলে উল্লেখ করেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মাঠপর্যায়ে যুদ্ধবিরতির অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ গাজায় ইসরায়েলের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। যদিও ট্রাম্প শুক্রবার হামাসের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পরই ইসরায়েলকে বোমা বর্ষণ বন্ধের আহ্বান জানান।
ইসরায়েল সরকারের মুখপাত্র শশ বেদরোসিয়ান বলেন, বস্তুতপক্ষে গাজা উপত্যকার ভেতরে বোমা বর্ষণ বন্ধ হয়েছে, তবে এখনও কোনো যুদ্ধবিরতি কার্যকর নেই।
গাজা থেকে সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বিমান হামলা ও ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে। রোববার গাজার কয়েকটি আবাসিক ভবন ধ্বংস হয়েছে এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।

হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৬৫ জন নিহত হয়েছে।
এদিকে কায়রোর বৈঠকে অংশ নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মেদ বিন আব্দুলরহমান আল থানি।
হামাসের প্রতিনিধি দল রোববার কায়রো পৌঁছেছে। দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন হামাস নেতা খলিল আল-হায়া, যিনি গত মাসে ইসরায়েলি হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন। ইসরায়েলি প্রতিনিধিদলকেও আলোচনায় অংশ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু।
হামাসের আচরণ অনেক ফিলিস্তিনির কাছে অপ্রত্যাশিত ছিল। পূর্বাভাস ছিল, তারা শান্তি পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করতে পারে বা কঠোর শর্ত আরোপ করবে। কিন্তু বাস্তবে তারা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছে, যা অনেকেই আন্তর্জাতিক চাপের ফল বলে মনে করছেন।
একজন জ্যেষ্ঠ ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কাতার, মিশর ও তুরস্কের কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় হামাসকে আলোচনায় আনাই ছিল মূল অর্জন। তবে অনেক ফিলিস্তিনি আশঙ্কা করছেন, এমন কৌশলগত নমনীয়তা ভবিষ্যতে আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।
ইসরায়েলের ঘেরাও ও হামলায় গাজার পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। যুদ্ধের শুরু থেকে গাজার জনসংখ্যার বেশিরভাগই একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং ৯০ শতাংশের বেশি বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
সিএনএনকে দেওয়া এক মন্তব্যে ট্রাম্প বলেন, হামাস যদি গাজার ক্ষমতায় থাকতে চায়, তবে তাদের সম্পূর্ণ বিলুপ্তির মুখে পড়তে হবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েল হামলায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত ও ২৫১ জনকে জিম্মি করে নেওয়ার পর এই যুদ্ধ শুরু হয়।


