যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে পৌঁছেছেন থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের সাক্ষী হতে। দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ মেটাতে এই চুক্তি স্বাক্ষর হতে যাচ্ছে দুই প্রতিবেশী দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশের মধ্যে।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
ট্রাম্পের বাণিজ্যিক চাপের পর চলতি বছরের জুলাই মাসের শেষ দিকে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা হয়, যা টানা পাঁচ দিনের সংঘর্ষের অবসান ঘটায়। ওই সংঘাতে দুই পক্ষ মিলিয়ে ২৪ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হন।
মালয়েশিয়া সফরকালে ট্রাম্প দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান সম্মেলনেও অংশ নেবেন। তিনি এক সপ্তাহের এক গুরুত্বপূর্ণ এশিয়া সফরে রয়েছেন, যার অংশ হিসেবে তিনি জাপানে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রক্ষণশীল নেতৃত্বাধীন সরকারের সঙ্গে বৈঠক করবেন এবং দক্ষিণ কোরিয়ায় এশিয়া-প্যাসিফিক ইকোনমিক ফোরাম নেতৃবৃন্দের সম্মেলনে যোগ দেবেন।
এই সফরের মূল আকর্ষণ হবে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গিয়ংজুতে এপেক সম্মেলনের সাইডলাইনে বৈঠক।
থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার বিরোধ নতুন নয়। শতাধিক বছর ধরে চলা এ সীমান্ত বিতর্কের সূত্রপাত হয়েছিল ফরাসি উপনিবেশকালীন সময়ে কাম্বোডিয়ার সীমানা নির্ধারণের পর থেকে।
২০০৮ সালে বিরোধটি আবার তীব্র রূপ নেয়, যখন কাম্বোডিয়া সীমান্তবর্তী একটি ১১শ শতকের মন্দিরকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে নিবন্ধনের উদ্যোগ নেয়—যা থাইল্যান্ডের তীব্র প্রতিবাদের জন্ম দেয়।
গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দুই দেশের মধ্যে বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষে সৈন্য ও সাধারণ নাগরিক নিহত হয়েছে বহুবার।
ট্রাম্প ইতিমধ্যে কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নেমেছেন, যেখানে তাকে স্বাগত জানান মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। পরে তিনি দেশটির মন্ত্রী ও শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
তার প্রথম কর্মসূচি হিসেবে থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার মধ্যকার সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।


