বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: রাজধানীর দয়াগঞ্জ মোড়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের বহনকারী বাসে হামলা চালিয়েছে ট্রাফিক পুলিশের সহায়তাকারীরা (ভলান্টিয়ার)। সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে মাগুরাগামী একটি বাসের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত পাঁচজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দয়াগঞ্জ মোড়ে ট্রাফিক সিগন্যালে বাসটি আটকে থাকলে শিক্ষার্থীরা বাস ছাড়ার অনুরোধ করেন। এ সময় ট্রাফিক সহায়তাকারীরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ও গালিগালাজ করে। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করলে সহায়তাকারীরা পুলিশের লাঠি নিয়ে তাঁদের ওপর চড়াও হয়।
হামলার শিকার সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী তালহা জুবায়ের বলেন, “তারা বাস ছেড়ে দেওয়ার পর হঠাৎ বড় ভাইদের ওপর আক্রমণ করে। আমরা বাঁচাতে গেলে পুলিশের লাঠি দিয়ে আমাদেরও মারে। পুলিশ তখন নীরব দর্শক ছিল।” অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী আল আমিন হোসেন জানান, কালো হুডি পরা এক ব্যক্তি পুলিশের লাঠি কেড়ে নিয়ে তাঁদের মারধর করে।
আহতরা হলেন— তালহা জুবায়ের প্রিয়ম, আলামিন হোসেন, সোহাইল, মোহন, মোসাব্বির ও চৈতি।
হামলার খবর ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে শিক্ষার্থীরা দয়াগঞ্জ মোড়ে জড়ো হয়ে বিচার দাবিতে স্লোগান দেয়। একপর্যায়ে পুলিশ ফাঁড়ি থেকে একজন অভিযুক্তকে বের করা হলে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা পুলিশের বাধা উপেক্ষা করে তাকে মারধর করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে কয়েকজন সহকারী প্রক্টরও আহত হন। পরবর্তীতে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তিন অভিযুক্তকে পুলিশের সোপর্দ করা হয়।
জবি প্রক্টর অধ্যাপক মুহাম্মদ তাজাম্মুল হক জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ওয়ারী জোনের ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থার আশ্বাস দেন।
তবে, গেন্ডারিয়া থানার ওসি গোলাম মুর্তজা জানান, “কাউকেই আটক করা হয়নি। চারজনকে মব থেকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এরপর তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”
বাংলাফ্লো/এফআইআর






