বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ অভিযোগ করেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান হিসেবে এবং একইসঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Clash of Interest) হচ্ছে। তিনি বলেন, কমিশনের জমা দেওয়া চূড়ান্ত সুপারিশমালা, গত ১৭ অক্টোবর স্বাক্ষরিত মূল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ থেকে “বহুদূরে সরে গিয়েছে।”
বুধবার (১২ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জুলাই সনদ, গণভোটের সময় এবং জোটের রাজনীতিসহ সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে বিএনপির অবস্থান তুলে ধরেন।
সালাহউদ্দিন আহমেদ দাবি করেন, জুলাই সনদের ৮৪টি দফার মধ্যে যেগুলোতে বিএনপির ভিন্নমত (নোট অব ডিসেন্ট) ছিল, সেগুলো চূড়ান্ত সুপারিশে উপেক্ষা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই নোট অব ডিসেন্ট প্রথাগত নোট অব ডিসেন্ট নয়। …লেখা আছে যে, এই দফাগুলো… জনগণে ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত হলে… সেই মতে বাস্তবায়ন করতে পারবে।”
তিনি বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলো যেসব বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাবে তা নিয়ে জাতীয় সনদ হবে এবং পরবর্তী নির্বাচিত সংসদ সনদ বাস্তবায়ন করবে– এই বক্তব্য থেকে প্রধান উপদেষ্টা সরে যেতে পারেন না।”
গণভোটের সময় নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে যে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি বিএনপির অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “(গণভোট) আগে হওয়ার কোনো যৌক্তিকতা এখন নেই, সময় নেই। তাছাড়া প্রয়োজনও নেই। কারণ একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনে যদি আমরা একটা ছোট্ট ব্যালটে এই গণসম্মতিটা নিতে পারি, সেটাই হবে সবচাইতে যৌক্তিক, প্রাসঙ্গিক, গ্রহণযোগ্য এবং অতিরিক্ত ব্যয় হবে না।”
এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনী সমঝোতা হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “রাজনীতিতে এ সমস্ত বিষয়ে শেষ কথা তো বলা যায় না।” তিনি জানান, এনসিপির পক্ষ থেকে কোনো প্রস্তাব আসেনি বা বিএনপিও কোনো প্রস্তাব দেয়নি। “তবে একদম সেই সমঝোতা বা সেই জোট হবে না– এটাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। সেজন্য আরও অপেক্ষা করতে হবে।”
আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপির এই নেতা বলেন, “তখন যারা ভোট বর্জন করেছিল (বিএনপি), তারা নিষিদ্ধ দল ছিল না, তাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগও ছিল না। সুতরাং এখন আওয়ামী লীগের ভোট করতে না পারার সঙ্গে বিষয়টির তুলনা করা চলে না। …ওই কারণে আগামী নির্বাচন অবৈধ হবে বা অংশগ্রহণমূলক হবে না– এ ধারণার সঙ্গে আমরা একমত নই।”
বাংলাফ্লো/এফআইআর






