খাদ্যাভ্যাস আর অনিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপনের জন্যই দেশে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাংলাদেশে প্রতিবছর আড়াই লাখ মানুষ নতুন করে ক্যান্সারে আক্রান্ত হচ্ছে। এর পেছনে খাদ্যে ভেজাল আর বায়ু দূষণকেও দায়ী করেছেন দেশ-বিদেশের স্বণামধন্য ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা।
খাদ্যাভ্যাস আর জীবনযাপন পদ্ধতি পরিবর্তন না আনলে ক্যান্সার ঠেকানো কঠিন বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।
আজ বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর রেডিসন ব্লু হোটেলে অনকোলোজি ক্লাব আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ক্যান্সার কংগ্রেস-২০২৫-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞরা এসব কথা বলেন।
এবারের কনফারেন্সে বিশ্বের ১৬টি দেশের ৩১ জন খ্যাতনামা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞসহ মোট ১২০০ জন ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ, ক্যান্সার সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী ও গবেষক অংশগ্রহণ করেছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অনকোলজি ক্লাব বাংলাদেশ ও ক্যান্সার কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এম এ হাই বলেন, বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল বিশ্বে ক্যান্সার রোগীর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা আশঙ্কাজনক। দেশে বর্তমানে বিপুল জনগোষ্ঠী এই রোগে আক্রান্ত। যার অধিকাংশই চিকিৎসার আওতার বাইরে।
দেশে ক্যান্সার চিকিৎসার আধুনিকায়নে মানসম্পন্ন ও দক্ষ জনবল তৈরি করাই ক্লাবের মূল উদ্দেশ্য জানিয়ে ডা. হাই বলেন, ক্যান্সার জয় করতে এবং দেশের ক্রমবর্ধমান ক্যান্সার রোগী ও তাদের পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
প্রতি জেলায় ক্যান্সার ইউনিট গড়ে তোলার সরকারি সিদ্ধান্তের ভূয়সী প্রশংসাও করেন তিনি। তরুণ চিকিৎসকদের ক্যান্সার চিকিৎসায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান বর্ষীয়ান এই ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ।
একাডেমিক পার্টনার হিসেবে যুক্ত রয়েছে ইতালির বলোনিয়া ইউনিভার্সিটি, সিংহেলথ সিঙ্গাপুর এবং গ্লোবাল হেলথ ক্যাটালিস্ট। এছাড়া যুক্তরাজ্যের রয়েল মডার্ন হাসপাতাল, সেন্টবার্থোলোমিউ’স হাসপাতাল, কেএইচসিসি এডুকেশন অ্যান্ড ট্রেনিং একাডেমি, হুইপস ক্রস ইউনিভার্সিটি, যুক্তরাষ্ট্রের ইউপিএমসি হিলম্যান ক্যান্সার সেন্টার, ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গ স্কুল অব মেডিসিন, পেনসিলভানিয়া ইউনিভার্সিটিসহ বিশ্বের অন্যান্য খ্যাতনামা ক্যান্সার হাসপাতালের চিকিৎসকও গবেষকবৃন্দ উপস্থিত থাকবেন।
অনকোলজি ক্লাব বাংলাদেশ ও ক্যান্সার কংগ্রেসের প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. এম. এ. হাই এবং জেনারেল সেক্রেটারি ডা. এ এম এম শরীফুল আলম-এর নেতৃত্বে দেশের প্রখ্যাত ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ, বিজ্ঞানী ও গবেষকরা অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন একাডেমিক সেশনে।






