অর্থনীতি ডেস্ক
ঢাকা: ছেঁড়া, ফাটা বা ময়লাযুক্ত টাকা নিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তির দিন শেষ হতে চলেছে। এখন থেকে যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের শাখায় গিয়েই তাৎক্ষণিকভাবে বদলে নেওয়া যাবে এমন নোট। বাংলাদেশ ব্যাংক এক নতুন নীতিমালায় জানিয়েছে, নোটে যদি ৯০ শতাংশ বা তার বেশি অংশ অক্ষত থাকে, তবে গ্রাহক তাৎক্ষণিকভাবে পুরো মূল্য ফেরত পাবেন। গত ১৫ ডিসেম্বর থেকে এই ‘নোট রিফান্ড রেগুলেশনস’ কার্যকর হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, নোটের ৯০ শতাংশের বেশি অংশ বিদ্যমান থাকলে ব্যাংকের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যাচাই-বাছাই শেষে কাউন্টারেই গ্রাহককে টাকা বদলে দেবেন। তবে নোটের ৯০ শতাংশ বা তার কম অংশ থাকলে কিংবা নোটটি অতিরিক্ত ময়লাযুক্ত হলে তাৎক্ষণিক টাকা পাওয়া যাবে না। এগুলোকে ‘দাবিযোগ্য নোট’ হিসেবে গণ্য করে গ্রাহকের আবেদনসহ বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যাচাই শেষে সর্বোচ্চ ৮ সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানাবে যে গ্রাহক কত টাকা ফেরত পাবেন।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিজস্ব কাউন্টারে টাকা বদলের সেবা বন্ধ করে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ওপর এই দায়িত্ব অর্পণ করেছে। সার্কুলারে বলা হয়েছে, প্রতিটি ব্যাংকের প্রতিটি শাখায় ‘ছেঁড়া-ফাটা নোট বদল করা হয়’—মর্মে দৃশ্যমান নোটিশ টানাতে হবে। কোনো শাখা যদি এই সেবা দিতে অনীহা প্রকাশ করে বা গ্রাহককে ফিরিয়ে দেয়, তবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নীতিমালায় স্পষ্ট করা হয়েছে, আগুনে পোড়া নোট বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো বদল করতে পারবে না। এর জন্য গ্রাহককে সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংকের যেকোনো শাখায় আবেদন করতে হবে।
নোটের অবস্থা বিবেচনা করে প্রচলনে থাকা নোটগুলোকে ৫টি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে: পুনঃপ্রচলনযোগ্য, অপ্রচলনযোগ্য, ছেঁড়া-ফাটা/ত্রুটিপূর্ণ, দাবিযোগ্য এবং আগুনে পোড়া নোট। তবে সাবধান, কেউ যদি জালিয়াতি করে ভিন্ন নোটের অংশ জোড়া দিয়ে দাবি করেন, তবে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






