সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালনা পরিষদের নির্বাচন থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিয়েছেন তামিম ইকবাল। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচনে ফিক্সিং বন্ধ করার কথা বলেছেন।
বুধবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ছিল মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ সময়। সকাল সোয়া ১০টায় মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে বিসিবি নির্বাচন কমিশন অফিসে এসে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন তামিম। পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে অভিযোগ তোলেন হস্তক্ষেপের।
বলেন, ‘আপনারা বলেন ফিক্সিং বন্ধ করেন ক্রিকেটে। আগে নির্বাচনের ফিক্সিং বন্ধ করেন, এরপর ক্রিকেটের ফিক্সিং বন্ধ কইরেন। এটা কোন নির্বাচন ছিল না। বাংলাদেশের ক্রিকেটে এই নির্বাচন কালো দাগ হয়ে থাকবে। বিসিবি নির্বাচন ঘিরে যা ইচ্ছা তা-ই করা হচ্ছে। এটা সুন্দর প্রক্রিয়া হতে পারে না। যারা বোর্ডে আছেন তারা চাইলে এভাবে নির্বাচন করতে পারেন, জিততেও পারেন। তবে আজকে ক্রিকেট শতভাগ হেরে গেছে।’
‘আমি একটা জিনিস সবসময় বলেছি, বাংলাদেশ ক্রিকেট এটা ডিজার্ভ করে না, বাংলাদেশের ক্রিকেট ফ্যানরাও এটা ডিজার্ভ করে না। এটাও বলে রাখি, আমি জানি না কতজন স্বীকার করবেন কী করবেন না, কিন্তু এখানে আরও অনেকেই আজকে প্রত্যাহার করতেন। তাদেরকে বিভিন্নভাবে, বিভিন্ন ওয়েতে বোঝানো হয়েছে বা চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে, তাদেরকে কোনভাবে থামানো হয়েছে।’
তামিমসহ মোট ১৫ জন প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন। তামিমের অভিযোগ, ‘চাপ প্রয়োগ না হলে আরও অনেকেই প্রত্যাহার করতেন। তাও ১৫ জন যদি আজকে করে থাকেন, যদি আমি ঠিক হয়ে থাকি, এটা একটা সিগনিফিকেন্ট নাম্বার। অলমোস্ট ফিফটিন পার্সেন্ট প্রত্যাহার করে নিয়েছে। আমি এই বিষয়ে পরে ডিটেইলস আপনাদের সঙ্গে কথা বলবো।’
‘আপনারা জিততেও পারেন, হারতেও পারেন, কিন্তু আজকে ক্রিকেট শতভাগ হেরে গেছে। এটা নিয়ে কোন সন্দেহ নাই। আপনারা বড় গলায় বলেন যে বাংলাদেশে ফিক্সিং বন্ধ করা লাগবে, আগে নির্বাচনের ফিক্সিং বন্ধ করেন, পরে ক্রিকেটের ফিক্সিং বন্ধ করার চিন্তাটা করবেন। আমার এরচেয়ে বেশিকিছু বলার নাই।’
‘আমার কাছে মনে হয় যে, এটা স্পষ্টভাবে ক্লিয়ার সবার কাছে, কারা কারা কোন সময়ে, কারা কারা কোনধরনের ইনভল্বমেন্ট এখানে রেখেছেন, কীধরনের হস্তক্ষেপ হয়েছে, নিয়ম ইচ্ছামত, কত সুবিধার মতো যেসময় দরকার ও সময় চেঞ্জ করা হয়েছে। আর এরসঙ্গে কারা কারা জড়িত, একদম স্পষ্টভাবে ক্লিয়ার।’
‘আমি এরচেয়ে বেশি আর কোন কথা বলব না, ইনশাআল্লাহ ভবিষ্যতে এটা নিয়ে অবশ্যই কথা বলব। আমার স্পিচে এই কথাই বলে শেষ করব যে, এই নির্বাচন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের জন্য একটা কালো দাগ হয়ে গেল। আর এই ইলেকশনের পার্টের সঙ্গে যারা আছে, আমি নিশ্চিত তারাও বুঝতে পারেন যে, কোনদিক থেকেই এটা একটা নির্বাচন ছিল না।’


