যুক্তরাষ্ট্র সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে শাটডাউন হয়ে গেছে। বাজেট ঘাটতি মেটাতে শেষ মুহূর্তের তহবিল বিল পাস করতে ব্যর্থ হওয়ায় গত শনিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) থেকে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড।
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
এটি ২০১৮-১৯ সালের পর প্রথম শাটডাউন। ফলে অনেক সরকারি সেবা সাময়িকভাবে স্থগিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে জরুরি বা অপরিহার্য বিভাগগুলো চালু থাকবে, যদিও অনেক কর্মী বেতন ছাড়া কাজ করবেন। অন্যদিকে ‘অপ্রয়োজনীয়’ বিবেচিত কর্মকর্তাদের বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, শাটডাউন চলতে থাকলে ব্যাপক ও অপ্রত্যাবর্তনীয় ছাঁটাইয়ের মুখে পড়তে পারেন ফেডারেল কর্মীরা।
রিপাবলিকান সিনেটর জন থুন বলেছেন, তাদের দলকে জিম্মি করা যাবে না। অন্যদিকে সিনেটের শীর্ষ ডেমোক্র্যাট চাক শুমার অভিযোগ করেছেন, রিপাবলিকানরা মিথ্যা প্রচার চালাচ্ছে।
শাটডাউনের আগে কংগ্রেশনাল বাজেট অফিসের পরিচালক ফিলিপ সোয়াগেলের চিঠিতে সতর্ক করা হয়েছে, প্রতিদিন প্রায় ৭ লাখ ৫০ হাজার ফেডারেল কর্মী বাধ্যতামূলক ছুটিতে যেতে পারেন। এতে দৈনিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াতে পারে প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ডলার।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, এ সংখ্যা প্রতিদিন ভিন্ন হতে পারে। কোনো কোনো সংস্থা দীর্ঘমেয়াদে বেশি কর্মী ছাঁটাই করবে, আবার কেউ কেউ প্রয়োজনে পুনরায় কর্মী ডেকে আনবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী কংগ্রেস সদস্যরা নিয়মিত বেতন পাবেন। সামরিক বাহিনীও শাটডাউনে কাজ চালিয়ে যাবে, তবে তাদের বেতন মিলবে কেবল পরে।
যুক্তরাষ্ট্রে শাটডাউন এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদেই তিনবার সরকার বন্ধ হয়েছিল। এর মধ্যে ছিল ইতিহাসের দীর্ঘতম শাটডাউন, যা স্থায়ী হয়েছিল ৩৫ দিন।
এর আগে ১৯৯৫ সালে বিল ক্লিনটনের প্রথম মেয়াদে ২১ দিনের শাটডাউন হয়েছিল। রিপাবলিকানরা তখন মেডিকেয়ারসহ ব্যয় কমাতে চেয়েছিল।
২০১৩ সালে বারাক ওবামার স্বাস্থ্যসেবা আইনকে কেন্দ্র করে ১৬ দিনের শাটডাউন হয়। আর ১৯৮০-এর দশকে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান আটবার শাটডাউন দেখেছিলেন, যদিও সেগুলো ছিল অপেক্ষাকৃত স্বল্পমেয়াদী সবচেয়ে দীর্ঘটি ছিল মাত্র ৩ দিন।


