আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসির কলকাতা সফরে সল্টলেক স্টেডিয়ামে নজিরবিহীন বিশৃঙ্খলা ও ভাঙচুরের ঘটনার জেরে পদত্যাগ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে তিনি দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তিনি রাজ্যের বিদ্যুৎ দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে বহাল থাকছেন।
তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ মঙ্গলবার দুপুরে অরূপ বিশ্বাসের হাতে লেখা একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। চিঠিতে সই না থাকলেও কুণাল ঘোষ দাবি করেন, তদন্ত চলাকালীন নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে মন্ত্রী সরে দাঁড়িয়েছেন। বিকেলে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দপ্তর থেকে জানানো হয়, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্রীড়া দপ্তরের দায়িত্ব মুখ্যমন্ত্রী নিজেই সামলাবেন।
শুধু মন্ত্রীর পদত্যাগই নয়, রাজ্য সরকার পুলিশ ও প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছে।
রাজ্যের পুলিশ মহাপরিচালক (ডিজিপি) রাজীব কুমার, বিধাননগরের পুলিশ কমিশনার মুকেশ কুমার এবং ক্রীড়া দপ্তরের প্রধান সচিবকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বিধাননগরের ডিসি (সদর) অনীশ সরকারকে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে এবং স্টেডিয়ামের সিইও দেব কুমার নন্দনকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
পুরো ঘটনা তদন্তে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠন করা হয়েছে।
শনিবারের ওই অনুষ্ঠানে অরূপ বিশ্বাসের ভূমিকা নিয়ে গত চারদিন ধরে তীব্র সমালোচনা চলছিল। অভিযোগ রয়েছে, মেসি, সুয়ারেজ ও ডি পল মাঠে ঢোকার পর মন্ত্রী ও তথাকথিত ভিআইপিরা তাদের ঘিরে রেখেছিলেন। ভাইরাল হওয়া ছবিতে মন্ত্রীকে মেসির কোমর জড়িয়ে ধরে থাকতে এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ছবি তুলতে দেখা গেছে।
ভিআইপিদের এই ‘দখলদারিত্বের’ কারণে হাজার হাজার টাকা খরচ করে আসা দর্শকরা মেসিকে দেখার সুযোগ পাননি। নিরাপত্তার অভাবে মেসি মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপরেই ক্ষুব্ধ জনতা গ্যালারি ও মাঠে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, মেসি মাঠ ছাড়ার পরপরই মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসও দর্শকদের কটূক্তির মুখে স্টেডিয়াম ত্যাগ করেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






