অর্থনীতি ডেস্ক
ঢাকা: আমানতকারীদের অর্থ সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে এবং শিগগিরই বিনিয়োগকারীদের জন্য লভ্যাংশ ঘোষণার আশা করছে চতুর্থ প্রজন্মের বেসরকারি খাতের এসবিএসি ব্যাংক (সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক)। ব্যাংকটির ১৪তম বর্ষে পদার্পণ উপলক্ষ্যে বুধবার (১ এপ্রিল) প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. মোখলেসুর রহমান এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি জানান, আস্থাই ব্যাংকিং খাতের মূল শক্তি এবং সম্পদের মানের ওপর যে চাপ রয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে ভবিষ্যতে বিনিয়োগকারীরা ইতিবাচক খবর পাবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী এস এম মঈনুল কবীর।
ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার চিত্র তুলে ধরে জানানো হয়, আমানত ১৫ শতাংশ বেড়ে ১১ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে এবং ঋণ ও অগ্রিম ৭.৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় সাড়ে ৯ হাজার কোটি টাকা হয়েছে। ঋণ-আমানত অনুপাত (এডিআর) ৮২ শতাংশে রয়েছে, যা নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্ধারিত সীমার নিচেই অবস্থান করছে। ফলে ব্যাংকটি আগ্রাসী ঋণ বিতরণে যায়নি বলে দাবি করা হয়। একই সময়ে মোট সম্পদ দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা এবং পরিশোধিত মূলধন ৮২৪ কোটি টাকা। ব্যাসেল-৩ অনুযায়ী মূলধন পর্যাপ্ততার হার (সিআরএআর) ১৪ দশমিক ২২ শতাংশ, যা প্রয়োজনীয় সীমার চেয়েও বেশি। চেয়ারম্যান মোখলেসুর রহমান বলেন, ব্যাংকটি শুধু নিজেদের প্রবৃদ্ধির জন্যই নয়, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কৃষি, খাদ্য উৎপাদন এবং তরুণ উদ্যোক্তা তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম মঈনুল কবীর জানান, ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি সন্তোষজনক এবং অর্থ পরিশোধে কোনো সমস্যা হয়নি। ঝুঁকি বিবেচনায় বড় ঋণের পরিবর্তে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাতে (এসএমই) বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে, যা বর্তমানে ব্যাংকের মোট বিনিয়োগের ৩৬ শতাংশ। খেলাপি ঋণ সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত উদ্যোক্তাদের পুনর্বাসনে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। উল্লেখ্য, ২০১৩ সালের ৩ এপ্রিল যাত্রা শুরু করা এসবিএসি ব্যাংক বর্তমানে ৯০টি শাখা, ৩২টি উপশাখা, এজেন্ট আউটলেট ও ৭৭টি এটিএম বুথের মাধ্যমে সেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি ১০টি শাখায় ইসলামী শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং ও অফশোর ব্যাংকিং সেবাও চালু রয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






