বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া, বিশেষ করে গণভোটের সময়সূচি এবং সংসদের উচ্চকক্ষ গঠন পদ্ধতি নিয়ে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। বিএনপি নির্বাচনের দিন গণভোটের পক্ষে অবস্থান নিলেও, জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দল নির্বাচনের আগেই গণভোটের দাবিতে আন্দোলন করছে। এই অচলাবস্থায় অন্তর্বর্তী সরকার এক ‘দুরূহ চ্যালেঞ্জ’-এর মুখে পড়েছে এবং একটি ‘ভারসাম্যমূলক সমাধান’ হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই গণভোট আয়োজনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে।
দলগুলোর মধ্যে প্রধান মতপার্থক্য দুটি: ১. গণভোটের সময়: বিএনপি ও তাদের মিত্রদের দাবি, জাতীয় নির্বাচনের দিনই গণভোট হতে হবে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি ইসলামী দল নভেম্বরের মধ্যেই গণভোটের দাবিতে আজ (মঙ্গলবার) পুরানা পল্টনে সমাবেশ ডেকেছে। এনসিপি জানিয়েছে, রাজনৈতিক ঐকমত্য হলে গণভোট যেকোনো সময় হতে পারে। ২. উচ্চকক্ষ গঠন (পিআর): ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, নিম্নকক্ষে দলগুলোর প্রাপ্ত মোট ভোটের সংখ্যানুপাতিক হারে (পিআর) ১০০ সদস্যের উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। জামায়াত ও এনসিপি এই সুপারিশ সমর্থন করে। কিন্তু বিএনপি শুরু থেকেই এর বিরোধিতা করে আসছে। বিএনপির দাবি, প্রাপ্ত আসনের আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ গঠন করতে হবে এবং তারা এ নিয়ে জুলাই সনদে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) দিয়ে রেখেছে।
সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, সরকার বিএনপিকে উচ্চকক্ষ গঠনের পদ্ধতিতে ছাড় দিয়ে (অর্থাৎ আসনের ভিত্তিতে) এবং জামায়াতকে গণভোটের সময় ইস্যুতে ছাড় দিয়ে (অর্থাৎ নির্বাচনের দিন আয়োজন) একটি সমঝোতার চেষ্টা করছে।
সরকার মনে করছে, নির্বাচনের আগে আলাদাভাবে গণভোট আয়োজন করলে রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় হবে এবং ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করা কঠিন হবে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকির বিষয় হলো, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগের ভোটাররা কেন্দ্রে গিয়ে গণভোটে ‘না’ ভোট দিলে পুরো সংস্কার প্রক্রিয়াটিই ভেস্তে যেতে পারে।
রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐকমত্যে পৌঁছাতে গত ৩ অক্টোবর যে সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, তা গতকাল (সোমবার) শেষ হয়েছে। দলগুলো নিজেরা বসতে ব্যর্থ হওয়ায়, বিষয়টি নিয়ে আগামী বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে আলোচনা হবে।
জানা গেছে, সরকার গণভোট আয়োজনের জন্য আগামী সপ্তাহেই একটি অধ্যাদেশ জারি করতে পারে। জামায়াত ও এনসিপির দাবি— এই আদেশ প্রধান উপদেষ্টাকে জারি করতে হবে; অন্যদিকে বিএনপির দাবি— এটি কেবল রাষ্ট্রপতিই করতে পারেন। সরকার ভারসাম্য রক্ষায়, উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতিকে দিয়েই অধ্যাদেশ জারি করার পথে হাঁটছে।
এ ছাড়া, বিএনপিকে শান্ত করতে, ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ ২৭০ দিনের মধ্যে সংস্কার করতে ব্যর্থ হলে প্রস্তাবগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংবিধানে যুক্ত হয়ে যাবে— কমিশনের সুপারিশের এই অংশটিও বাদ দেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






