আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: অর্থনৈতিক সংকটের জেরে গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভে ভয়াবহ রক্তপাত দেখল ইরান। প্রথমবারের মতো দেশটির কোনো সরকারি কর্মকর্তা স্বীকার করলেন যে, গত দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই সহিংসতায় অন্তত ২,০০০ মানুষ নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা এই তথ্য নিশ্চিত করেন। নিহতদের মধ্যে সাধারণ বিক্ষোভকারীর পাশাপাশি নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরাও রয়েছেন।
ইরানি কর্তৃপক্ষের জন্য গত তিন বছরের মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ। সরকারি ওই কর্মকর্তা প্রাণহানির সুনির্দিষ্ট বিভাজন (কতজন নাগরিক ও কতজন পুলিশ) না দিলেও এই হত্যাকাণ্ডের জন্য ‘সন্ত্রাসীদের’ দায়ী করেছেন। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের উসকানিতে অজ্ঞাত সন্ত্রাসীরা সাধারণ মানুষের ন্যায়সঙ্গত অর্থনৈতিক দাবিদাওয়ার আন্দোলনকে ‘ছিনতাই’ করে সহিংস পথে নিয়ে গেছে।
বিক্ষোভ দমনে নজিরবিহীন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে ইরান সরকার। দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ প্রায় পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্ক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট যেন ব্যবহার করা না যায়, সেজন্য সামরিক গ্রেডের জ্যামার ব্যবহার করছে ইরান। রয়টার্স যাচাইকৃত ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, রাতের অন্ধকারে নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের তুমুল সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ এবং বিভিন্ন ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






