জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে র্যাব কর্মকর্তা মো. মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় টানা তিন দিনের অভিযানে ৩ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) থেকে সোমবার (২৬ জানুয়ারি) পর্যন্ত কক্সবাজার ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলায় মোট চারজনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
চট্টগ্রাম র্যাবের সহকারী পরিচালক এ আর এম মোজাফফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুজন এজাহারভুক্ত এবং একজন তদন্তে প্রাপ্ত আসামি।
২৪ জানুয়ারি: কক্সবাজার সদর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় এজাহারভুক্ত আসামি আলীরাজ হাসান ওরফে সাগরকে (২৮)।
২৫ জানুয়ারি: চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানার ইস্পাহানি মোড় থেকে গ্রেপ্তার হন এজাহারভুক্ত আসামি মো. মিজান (৫৩)।
২৬ জানুয়ারি: নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানার বগুড়া নিবাস এলাকা থেকে তদন্তে নাম আসা আসামি মো. মামুনকে (৩৮) গ্রেপ্তার করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট ও ঘটনা: গত সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে জঙ্গল সলিমপুরে ইয়াসিন গ্রুপের নেতৃত্বে একটি বিএনপি কার্যালয় উদ্বোধনের খবর দেয় র্যাবের সোর্স মনা। তথ্যের ভিত্তিতে র্যাবের একটি টিম সেখানে অভিযানে গেলে ইয়াসিন গ্রুপের অনুসারীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় র্যাবের চার সদস্য ও সোর্স মনাকে আটকে রেখে মারধর এবং অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের উদ্ধার করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক র্যাবের উপসহকারী পরিচালক (বিজিবির নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন।
জঙ্গল সলিমপুরে আধিপত্যের লড়াই: স্থানীয় সূত্রমতে, জঙ্গল সলিমপুরে হাজার কোটি টাকার সরকারি খাস জমি, পাহাড় দখল ও প্লট বাণিজ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এর এক পক্ষে আছেন বিএনপির পরিচয়ে সক্রিয় ইয়াসিন এবং অন্যপক্ষে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের বহিষ্কৃত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুকন উদ্দিন। এই দুই গ্রুপের আধিপত্য বিস্তারের লড়াইকে কেন্দ্র করেই র্যাবের ওপর এই ভয়াবহ হামলার ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় র্যাবের পক্ষ থেকে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে এবং ১৫০-২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






