জেলা প্রতিনিধি
নোয়াখালী: নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এবার আলোচনার কেন্দ্রে সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই ও বসুরহাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এবং বসুরহাট পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা মোশাররফ হোসাইন। ২০১৩ সালের ৭ শিবির কর্মী হত্যা মামলা নিয়ে ফেসবুকে দুই নেতার পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস ও ‘মামলা বাণিজ্য’র অভিযোগ ঘিরে ‘টক অব দ্য কোম্পানীগঞ্জে’ পরিণত হয়েছে পুরো এলাকা।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে পলাতক আবদুল কাদের মির্জা শনিবার (২০ ডিসেম্বর) তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর বসুরহাটে ৭ শিবির কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় জামায়াত নেতা মাওলানা মোশাররফ হোসাইন পুলিশ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের নাম মামলা থেকে বাদ দেওয়ার কথা বলে বিপুল অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে লেখেন, “তোরা তো ইসলামের রাজনীতি করিস, আয় আমি আর তুই মসজিদে ঢুকি। মসজিদে কোরআন মাথায় নিয়ে আমি বলতে পারব আমাদের দলের কোনো নেতা-কর্মী এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল না। তুই মিথ্যুক, তাই তুই কোরআন মাথায় নিয়ে সত্য কথা বলতে পারবি না।”
কাদের মির্জার এই অভিযোগের কড়া জবাব দিয়েছেন মাওলানা মোশাররফ হোসাইন। তিনি ফেসবুকে লেখেন, “আপনার অনুমতি ছাড়া পুলিশ গুলি করেনি—এটা আপনার কথাতেই প্রমাণিত। আপনি প্রমাণ দিন কার থেকে টাকা নিয়েছি। অযথা মিথ্যা বলে নিজের ইজ্জত আর নষ্ট করবেন না।” তিনি আরও বলেন, কাদের মির্জা অহেতুক মিথ্যাচার করছেন এবং তার এমন অবান্তর স্ট্যাটাসে জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে বলেই তিনি প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
২০১৩ সালের ১৪ ডিসেম্বর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও পুলিশের গুলিতে ৭ শিবির কর্মী নিহত হন। দীর্ঘদিন পর সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা ও পাল্টা অভিযোগের তীর ছুড়ছেন দুই নেতা। পলাতক থেকেও কাদের মির্জার এমন সরব উপস্থিতি এবং জামায়াত নেতার পাল্টা চ্যালেঞ্জ স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ সৃষ্টি করেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






