বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব প্রবারণা পূর্ণিমা আজ। বৌদ্ধ ভিক্ষুদের তিন মাসব্যাপী বর্ষাবাসের সমাপ্তি উপলক্ষে পালিত এই উৎসব পাপমোচন ও আত্মশুদ্ধির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
আজ (৬ অক্টোবর) সোমবার প্রবারণা পূর্ণিমা সারা দেশে বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদ্যাপিত হচ্ছে। বৌদ্ধ ধর্মবিশ্বাস অনুযায়ী, প্রবারণা পূর্ণিমায় ভিক্ষু ও গৃহীরা বুদ্ধপূজা, সংঘদান, পিণ্ডদান, অষ্টপরিষ্কার দান, পঞ্চশীল প্রার্থনা, শীল গ্রহণ, প্রদীপপূজা ও ফানুস ওড়ানোসহ নানা ধর্মীয় আচার পালন করেন। এদিনের পর থেকেই বিভিন্ন বিহারে শুরু হয় কঠিন চীবর দান উৎসব।
রাজকুমার সিদ্ধার্থ (পরবর্তীতে গৌতম বুদ্ধ) জাগতিক সকল দুঃখমুক্তি লাভের আশায় রাজ্য, রাজত্ব, ভোগ-বিলাস, ধনকুম্ভ সব ত্যাগ করে সংসার পরিত্যাগ করেছিলেন শুভ আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথিতে। তিনি সারথি ছন্দককে সঙ্গে নিয়ে অশ্ব কন্থকের পিঠে চড়ে অনোমা নদীর তীরে পৌঁছালেন। রাজ-আবরণ ছন্দককে বুঝিয়ে দিয়ে তিনি সন্ন্যাস-ব্রত গ্রহণ করলেন। এরপর ভাবলেন, ‘আমি এখন সন্ন্যাসী, রাজকীয় বাহারি চুল কী-বা প্রয়োজন?’
তরবারি দিয়ে চুলের গোছা কেটে নিয়ে মনে মনে অধিষ্ঠান করলেন, ‘যদি বুদ্ধ হওয়ার মতো গুণ আমার মধ্যে থেকে থাকে তাহলে ঊর্ধ্বদিকে নিক্ষিপ্ত চুলের গোছা মাটিতে না পড়ে আকাশে স্থিত থাকুক।’ এই সংকল্প করে তিনি চুলের গোছা উপরের দিকে নিক্ষেপ করলেন। বড়ই আশ্চর্যের ব্যাপার! একটা চুলও মাটিতে পড়ল না। বৌদ্ধধর্ম মতে, স্বর্গের ইন্দ্ররাজা চুলগুলো হীরা, মণি, মানিক্যখচিত স্বর্ণপাত্রে ধারণ করে তাবতিংস স্বর্গে উক্ত কেশ-ধাতু স্থাপন-পূর্বক একটি চৈত্য নির্মাণ করেন এবং এই চৈত্যের নাম রাখা হয় ‘চুলামনি চৈত্য’।
স্বর্গের দেবতারা এখনও এর পূজা করে থাকেন। এই পুণ্যময় পূর্ণিমা তিথিতে গৌতম বুদ্ধ তাবতিংস স্বর্গে মাতৃদেবীকে অভিধর্ম দেশনার পর ভারতের সাংকাশ্য নগরে অবতরণ করেন এবং মানব জাতির সুখ, শান্তি ও কল্যাণে দিকে দিকে স্বধর্ম প্রচারের জন্য তার ভিক্ষু সংঘকে নির্দেশ প্রদান করেন; একই সঙ্গে, এদিনেই তার তিন মাসের বর্ষাবাসের পরিসমাপ্তি ঘটে।
প্রবারণা পূর্ণিমা উপলক্ষে রাজধানীর মেরুল বাড্ডায় অবস্থিত আন্তর্জাতিক বৌদ্ধবিহারে দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ বুড্ডিস্ট ফেডারেশন। সূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে ৬টায় জাতীয় ও ধর্মীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। সকাল ৭টা ১০ মিনিটে ভিক্ষু সংঘের প্রাতরাশ, সকাল সাড়ে ৯টায় শীল গ্রহণ ও বুদ্ধপূজা, বেলা ১১টায় পিণ্ডদান, বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে আলোচনা সভা এবং সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় আলোকসজ্জা ও বর্ণাঢ্য ফানুস উৎসব অনুষ্ঠিত হবে।
দিনভর নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বৌদ্ধ সম্প্রদায় উদ্যাপন করবে আত্মশুদ্ধি ও শুভকামনার এই উৎসব। সন্ধ্যায় আকাশে ওড়ানো হবে শত শত ফানুস, যা প্রবারণার আনন্দ ও শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দেবে চারপাশে।


