আশুগঞ্জে ট্রেন স্টেশন পরিদর্শন শেষে সরাইলের পথে রওনা হয়ে হেলমেট বিপাকে পড়লেন সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফৌজুল কবির খান। সরাইলের পথে রওনা হতে গিয়ে দেখা যায়, আশপাশে থাকা আট-দশটি মোটরসাইকেলের চালক বা যাত্রীর কারও মাথায় হেলমেট নেই। দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর একটি মাত্র হেলমেট পাওয়া যায়। শেষ পর্যন্ত সবার পরামর্শে সেটি নিজে পরে মোটরসাইকেলে চড়ে গন্তব্যের পথে রওনা দেন তিনি।
হেলমেটবিহীন বাইকচালকদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশকে পরামর্শ ও বিআরটিএ, জেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি। এ নিয়ে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা।
গতকাল বুধবার সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফৌজুল কবির খান ট্রেনযোগে ঢাকা থেকে ভৈরব পৌঁছান। সেখান থেকে গাড়িতে যেয়ে আশুগঞ্জ ট্রেন স্টেশন পরিদর্শন করে সরাইলে যাওয়ার পথে যানজটে পড়েন, যা দেশজুড়ে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়েছে।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন যাতায়াত বিশেষজ্ঞ ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ড. মইনুদ্দিন, রেল ও সড়ক বিভাগের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী, জেলা ও উপজেলা পরিষদ ও পুলিশের কর্মকর্তাবৃন্দ।
বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) সকালে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফৌজুল কবির খানের নিজস্ব ফেসবুক পেজে তার লিখা এক পোস্ট থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

সেখানে পৌঁছে বিএনপি, জামায়াতসহ স্থানীয় জনগণের সাথে কথা বলেন উপদেষ্টা।
এ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফৌজুল কবির বলেন, “স্থানীয় জনগণের দাবি স্টেশনটিকে পূর্বের ন্যায় বি শ্রেণিভুক্ত করতে হবে। স্টেশনটির বেহাল অবস্থা। উঁচুতে অবস্থিত স্টেশনটিতে মহিলা ও বয়োবৃদ্ধদের ওঠার ব্যবস্থাটি কঠিন। সিগনালিংসহ স্টেশনটির অন্যান্য ত্রুটি নিরসন ও দীর্ঘমেয়াদে কি করা যায় সে বিষয়ে রেলের মহাপরিচালককে নির্দেশ দেই।”
যানজটের বিষয়ে তিনি আরও বলেন, “যানজটের মূল কারণ সরাইল চৌরাস্তার নির্মাণ কাজ হলেও, পথে দেখতে পাই যে মূলত, চালকদের শৃঙ্খলাবোধ ও হাইওয়ে ট্রাফিক পুলিশের ব্যবস্থাপনার অভাবে যাত্রায় বিলম্ব ঘটছে।”
ফেসবুক পেজে তার দেওয়া পোস্ট থেকে আরও জানানো হয়, “ভারতীয় ঋণে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ঠিকাদার চলে যাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তাদের ফিরিয়ে এনে এখন পুনরায় কাজ শুরু করা হয়েছে। দুই লেনের মূল রাস্তার ডানপাশে দুই লেন ও বামপাশে একটি সার্ভিস লেন আছে। যেগুলির যথাযথ ব্যবহার করা হলে এতো যানজট হবার কথা নয়। মূল রাস্তার দুই পাশে ডিভাইডার স্থানে স্থানে ভেঙ্গে ফেলেছে। পাশ থেকে গাড়ি উঠে দুই লেন কোথাও তিন চার লেনে পরিণত হয়েছে। ফলে সবাই আগে যেতে চাচ্ছে কেউই আগাতে পারছে না। হাইওয়ে পুলিশ তৎপর থাকলে এটা হতোনা। এ বিষয়ে পুলিশের আইজিপির সাথে কথা হয়েছে, আজ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সাথে কথা বলব।”
রাস্তা সংস্কার বিষয়ে ফৌজুল কবির বলেন, “প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর সাথে পরামর্শক্রমে অবিলম্বে রাস্তা সংস্কার বিষয়ে ছয়টি পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ইতিপূর্বেই নির্মাণকাজ তদারকির জন্য অতিরিক্ত প্রদান প্রকৌশলীসহ ১২ জন কর্মকর্তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পদস্থ করা হয়েছে। আমরা আশা করছি দ্রুত এ রাস্তায় চলাচল প্রায় স্বাভাবিক হবে।”
ফেরার পথে সাংবাদিকদের প্রশ্নে, ‘উপদেষ্টাদের সেফ এক্সিট’ বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে, উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফৌজুল কবির খান বলেন, “এ বিষয়টি উত্থাপনকারী, প্রাক্তন উপদেষ্টা ও বর্তমান এনসিপি নেতা নাহিদ ইসলাম আমার অত্যন্ত স্নেহভাজন ও জুলাই আন্দোলনের অগ্রসেনা হিসাবে শ্রদ্ধার পাত্র। তাই তার বক্তব্যের ওপর আমার মন্তব্য করা শোভন নয়। তাছাড়া আমি রাজনৈতিক বিষয়ে কোন মন্তব্য করি না।”
তিনি আরও বলেন, “উপদেষ্টা হিসেবে যোগদানের পর থেকে আমার রোজনামচা এমনই। গতকালও রাত আটটায় বাসায় ফিরেছি। নিজে পদে থেকে অন্যায় সুবিধা গ্রহণ করিনি। আত্মীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব কাউকে ব্যবসা বা চাকরি দিই নাই। নিজের সীমিত সামর্থের সবটুকু ব্যবহার করে জনগণের প্রতি দায়িত্ব পালন করেছি। ইতিপূর্বে যুক্তরাষ্ট্র ও সিঙ্গাপুরের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার নিশ্চিত সুযোগ গ্রহণ করিনি।
তাই, আজ ৭২+ বছর বয়সে আমাকে যদি “সেফ এক্সিটের” কথা ভাবতে হয় তা হবে গভীর দু:খের বিষয়।”


