লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: ঋতুচক্র বা মাসিকের সময় অসহ্য পেটব্যথা অনেক কিশোরী বা নারীর জন্যই এক নীরব যন্ত্রণার নাম। লোকলজ্জা বা সামাজিক ভয়ের কারণে অনেকেই বিষয়টি লুকিয়ে রাখেন, যা পরবর্তীতে বন্ধ্যত্ব বা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য জটিলতার কারণ হতে পারে। এই যন্ত্রণাদায়ক ও জটিল রোগটির নাম ‘এন্ডোমেট্রিওসিস’ (Endometriosis)। রোগটি সম্পর্কে নারীদের সচেতন করতে বিশ্বব্যাপী মার্চ মাসকে ‘এন্ডোমেট্রিওসিস সচেতনতা মাস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।
মাসিকের সময় জরায়ুর ভেতরের আস্তর (এন্ডোমেট্রিয়াম) স্বাভাবিকভাবে শরীরের বাইরে বের না হয়ে অনেক সময় উল্টো দিকে প্রবাহিত হয়। এটি ফেলোপিয়ান টিউব দিয়ে জরায়ু ও এর আশপাশের অঙ্গে জমা হয়ে আঠালো নিঃসরণ তৈরি করে এবং অঙ্গগুলোকে জোড়া লাগিয়ে দেয় (এডহেসন)। ডিম্বাশয়ে এটি জমলে সিস্ট তৈরি হয়, যাকে ‘চকলেট সিস্ট’ বলে। আর এই তরল জরায়ুর পেশিতে জমা হলে তাকে ‘এডেনোময়োসিস’ বলা হয়।
মাসিকের সময় তীব্র অসহনীয় ব্যথা এই রোগের প্রাথমিক লক্ষণ। এর ফলে অনেক কিশোরী স্কুল-কলেজে যেতে পারে না। এছাড়া তলপেটে সব সময় ব্যথা থাকা, অস্বাভাবিক রক্তক্ষরণ, মল-মূত্র ত্যাগে কষ্ট, এবং বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রে সহবাসে তীব্র ব্যথা ও বন্ধ্যত্বের মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, এটি একটি দীর্ঘমেয়াদি (Chronic), পুনরাবৃত্তিমূলক (Recurrent – চিকিৎসায় ভালো হওয়ার পরও আবার হতে পারে) এবং ক্রমবর্ধমান (Progressive) রোগ। অবহেলা করলে এটি শরীরের অন্যান্য অঙ্গেও দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ নারী নীরবে এই কষ্ট সহ্য করছেন। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, উপসর্গগুলো লুকিয়ে না রেখে দ্রুত বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। নিয়মিত চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণে থাকলে এই রোগ সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।বাংলাফ্লো/এফআইআর



