বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: বিশেষ বিধান আইনের আওতায় করা অসম চুক্তির ভারে ধুঁকছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। ২০১৫ সালে সংস্থাটির লোকসান যেখানে ছিল সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা, ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বর্তমানে পিডিবি দেউলিয়া হওয়ার পথে। সংস্থাটিকে টিকিয়ে রাখতে হলে বিদ্যুতের দাম এক লাফে ৮৬ শতাংশ বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছে জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) বিদ্যুৎ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চুক্তি পর্যালোচনা কমিটির প্রতিবেদনে এসব বিস্ফোরক তথ্য উঠে আসে।
কমিটি জানায়, পিডিবির প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ কিনতে খরচ হয় ১২ টাকা ৩৫ পয়সা, অথচ তারা বিক্রি করছে ৬ টাকা ৬৩ পয়সায়। এই বিশাল ব্যবধান কমানো ছাড়া পিডিবির পক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব।
কমিটির সদস্য ও বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বিশেষ বিধান আইনের আড়ালে ক্রয় ও চুক্তি প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে ‘রাষ্ট্র দখল’ (State Capture)-এর রূপ নেয়। লেনদেনভিত্তিক সম্পর্কের মাধ্যমে হাতেগোনা কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীকে সুবিধা দেওয়া হয়েছে।’ চুক্তির কারণে অতিরিক্ত দামের পরিসংখ্যান:
তেলভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ৫০% বেশি দাম।
গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রে ৪৫% বেশি দাম।
সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পে প্রায় ৮০% বেশি দামে বিদ্যুৎ কেনা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সার্বভৌম গ্যারান্টি দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের বাইরে (আদানি) হলেও ঝুঁকির দায় বাংলাদেশের ঘাড়ে চাপানো হয়েছে। অন্যদিকে, গ্যাস ফুরিয়ে আসার উপক্রম হলেও সামিট গ্রুপকে একই জায়গায় একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
কমিটি শুধু বিশেষ আইন বাতিলই যথেষ্ট মনে করছে না। তারা আদানির চুক্তি বাতিল এবং রাষ্ট্রের ‘রক্তক্ষরণ’ ঘটানো অন্যান্য চুক্তিগুলো পুনর্বিবেচনার সুপারিশ করেছে। সংস্কার না করলে এই ঋণের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের ঘাড়েই চাপবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






