বাংলাফ্লো ডেস্ক
ঢাকা: সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনীতির মাঠে এক অদ্ভুত ‘মিউজিক্যাল চেয়ার’ খেলা দেখল দেশবাসী। নির্বাচনের আগে নিজের গড়া দল বিলুপ্ত করে বিএনপির ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়েছিলেন অর্ধডজনেরও বেশি নেতা। লক্ষ্য ছিল একটাই—ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়া। কিন্তু ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেল, ‘আমও গেল, ছালাও গেল’। দল বিসর্জন দিয়েও অনেকের কপালে জুটল কেবলই পরাজয়ের গ্লানি; যদিও রেজা কিবরিয়া ও ববি হাজ্জাজের মতো কয়েকজন সাফল্যের মুখ দেখেছেন।
আরপিও-এর সংশোধিত বিধান অনুযায়ী জোটবদ্ধ হলেও নিজ দলের প্রতীকে ভোট করার বাধ্যবাধকতা ছিল। পরাজয়ের শঙ্কায় ছোট দলের নেতারা তড়িঘড়ি করে নিজেদের দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে যোগ দেন। কিন্তু মাঠের রাজনীতিতে এই কৌশল বুমেরাং হয়েছে অনেকের জন্য।
যাদের কপাল পুড়ল:
সবচেয়ে আলোচিত পতন হয়েছে কিশোরগঞ্জ-৫ আসনে সৈয়দ এহসানুল হুদার। বাংলাদেশ জাতীয় দল বিলুপ্ত করে বিএনপিতে ভেড়া এই নেতা ধানের শীষ পেয়েও হেরেছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী শেখ মজিবুর রহমান ইকবালের কাছে। কুমিল্লা-৭ আসনে এলডিপি ছেড়ে আসা প্রবীণ নেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদও শেষ রক্ষা করতে পারেননি। তিনিও বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী আতিকুল আলম শাওনের কাছে প্রায় দ্বিগুণ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন।
যুবনেতা রাশেদ খান গণঅধিকার পরিষদ বিলুপ্ত করে ঝিনাইদহ-৪ আসনে ধানের শীষ নিয়ে লড়েছিলেন। কিন্তু জামায়াত প্রার্থী মাওলানা আবু তালেবের কাছে তিনি ধরাশায়ী হন; এমনকি ভোটের ব্যবধানে তিনি তৃতীয় অবস্থানে ছিটকে পড়েন। নড়াইল-২ আসনে এনপিপি বিলুপ্ত করা ফরিদুজ্জামান ফরহাদ হ্যাটট্রিক পরাজয় বরণ করেছেন জামায়াত প্রার্থীর কাছে। একই দশা হয়েছে যশোর-৫ আসনের রশীদ বিন ওয়াক্কাসের; জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ছেড়ে আসা এই নেতাও জামায়াত ও বিদ্রোহী প্রার্থীর তোপে তৃতীয় হয়েছেন।
যারা হাসলেন বিজয়ের হাসি:
তবে দলবদল করে সবার কপাল পোড়েনি। অর্থনীতিবিদ ড. রেজা কিবরিয়া হবিগঞ্জ-১ আসনে এবং এনডিএম বিলুপ্ত করে আসা ববি হাজ্জাজ ঢাকা-১৩ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন। এছাড়া বিএলডিপি ছেড়ে আসা শাহাদাত হোসেন সেলিম লক্ষ্মীপুর-১ আসনে বড় ব্যবধানে জিতে সংসদে নিজের আসন নিশ্চিত করেছেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






