বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: দাম্পত্য কলহ আর স্ত্রীর মানসিক চাপ সইতে না পেরে চলন্ত গাড়ি থেকে ‘জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯’-এ ফোন করে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছিলেন এক পাকিস্তানি নাগরিক। তবে ৯৯৯-এর তাৎক্ষণিক তৎপরতা ও তুরাগ থানা পুলিশের হস্তক্ষেপে শেষ পর্যন্ত বড় কোনো অঘটন ছাড়াই রক্ষা পেয়েছেন ওই টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় এই নাটকীয় ঘটনা ঘটে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) ৯৯৯–এর গণমাধ্যম ও জনসংযোগ কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক আনোয়ার সাত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
কী ঘটেছিল? পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার গভীর রাতে ওই ব্যক্তি ৯৯৯-এ ফোন করে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, তিনি গাড়ি চালানো অবস্থায় আছেন এবং মানসিক অবসাদ থেকে আত্মহত্যা করতে যাচ্ছেন। কলটেকার কনস্টেবল বায়েজিদ তাকে শান্ত করার চেষ্টা করেন এবং আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়ে গাড়ি থামাতে অনুরোধ করেন।
অভিযোগের বিস্তারিত:
ওই পাকিস্তানি নাগরিক বাংলাদেশের একটি রপ্তানিমুখী প্রতিষ্ঠানে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কর্মরত।
চার বছর আগে বাংলাদেশি এক নারীকে বিয়ে করেন এবং তাদের দুটি সন্তান রয়েছে।
তার অভিযোগ, তিনি মাসে দুই লাখ টাকা বেতন পান এবং এর সিংহভাগ স্ত্রীর হাতে তুলে দেন। এরপরও স্ত্রী আরও টাকা দাবি করেন এবং পরকীয়ার মিথ্যা অপবাদ দিয়ে তাকে ব্ল্যাকমেইল করেন।
পুলিশি হস্তক্ষেপ ও সমাধান: বিষয়টি দ্রুত তুরাগ থানার ওসির নজরে আনা হয়। ডিসপাচার এসআই সাব্বির আহমেদ নিক্সনের সমন্বয়ে তুরাগ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ওই ব্যক্তির বাসায় পৌঁছায়। সেখানে তার সহকর্মী, বন্ধু-বান্ধব ও শাশুড়ি উপস্থিত হন। স্ত্রীর অভিযোগ ছিল, স্বামী নিয়মিত গভীর রাতে বাসায় ফেরেন। পরবর্তীতে সবার উপস্থিতিতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যকার ভুল বোঝাবুঝির মীমাংসা করে দেওয়া হয়। কেউ লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় পুলিশ তাদের আইনি পরামর্শ দিয়ে ফিরে আসে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






