আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ঢাকা: ইরাকের পার্লামেন্ট গতকাল শনিবার দেশটির নতুন প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিজার আমেদিকে নির্বাচিত করেছে। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে সরকার গঠন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান হলো। প্যাট্রিয়টিক ইউনিয়ন অব কুর্দিস্তান (পিইউকে) মনোনীত প্রার্থী আমেদি পার্লামেন্টে দ্বিতীয় দফার ভোটাভুটিতে ২২৭ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী মুথানা আমিন নাদের পেয়েছেন মাত্র ১৫ ভোট।
২০০৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন অভিযানে সাদ্দাম হোসেনের ক্ষমতাচ্যুতির পর থেকে ইরাকের ষষ্ঠ প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিলেন আমেদি। নির্বাচিত হওয়ার পর পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে তিনি পুরোপুরি সচেতন। সরকারের তিনটি শাখার সঙ্গে একসঙ্গে কাজ করার এবং ‘সবার আগে ইরাক’ নীতিতে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। এছাড়া, চলমান ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের সময় ইরাকে হওয়া হামলারও তীব্র নিন্দা জানান নতুন প্রেসিডেন্ট।
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের পর এখন সবার দৃষ্টি নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের দিকে, যা রাজনৈতিকভাবে আরও উত্তেজনাপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০০৩ সালের পর থেকে ইরাকে ক্ষমতা ভাগাভাগির নিয়ম অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী পদে একজন শিয়া মুসলিম, পার্লামেন্ট স্পিকার হিসেবে সুন্নি এবং প্রেসিডেন্ট হিসেবে একজন কুর্দিকে নির্বাচিত হতে হয়। গত নভেম্বরের নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠন ছাড়াই প্রায় ১৫০ দিন পার হয়ে গেছে। সংবিধান অনুযায়ী, আমেদির হাতে এখন ১৫ দিন সময় আছে সবচেয়ে বড় জোটের মনোনীত ব্যক্তিকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার জন্য। এরপর সেই মনোনীত ব্যক্তিকে ৩০ দিনের মধ্যে মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে। ৫৮ বছর বয়সী আমেদি এর আগে দুজন সাবেক প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ সহকারী এবং ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইরাকের পরিবেশমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






