বাংলাদেশে নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন- ঢাকায় দায়িত্ব পেলে তিনি বাংলাদেশের সরকার ও সামরিক বাহিনীকে চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ঝুঁকি সম্পর্কে সরাসরি সতর্ক করবেন।
গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের পররাষ্ট্রবিষয়ক কমিটিতে অনুষ্ঠিত শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। সিনেট থেকে অনুমোদন পেলেই বাংলাদেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে তার নিয়োগ চূড়ান্ত হবে।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেন, দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের প্রভাব নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। ঢাকায় রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পেলে বাংলাদেশের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে চীনা প্রভাবের ঝুঁকি তুলে ধরবেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব আরও গভীর করার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশকে স্বচ্ছ প্রতিরক্ষা ক্রয় ও বৈচিত্র্যময় অংশীদারত্বের পথে উৎসাহিত করবেন।
শুনানিতে রিপাবলিকান সিনেটর পিট রিকেটস বাংলাদেশ-চীন সামরিক সহযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সম্প্রতি চীন বাংলাদেশে একটি কৌশলগত সাবমেরিন ঘাঁটি সংস্কার করেছে এবং বাংলাদেশ ২০টি চীনা জে-টেন যুদ্ধবিমান কেনার অনুমোদন দিয়েছে। এতে চীনা প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে বাংলাদেশের আর্থিক ও কৌশলগত সম্পর্ক বাড়ছে।
রিকেটস আরও বলেন, মার্কিন সিনেট সম্প্রতি ‘থিংক টুয়াইস অ্যাক্ট’ নামের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে, যার লক্ষ্য হলো বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশকে চীনের কাছ থেকে অস্ত্র কেনা থেকে নিরুৎসাহিত করা।
জবাবে ক্রিস্টেনসেন জানান, যুক্তরাষ্ট্র মিত্র দেশগুলোর জন্য তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তৈরি করছে, যাতে বাংলাদেশও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতা বাড়াতে পারে।
ক্রিস্টেনসেন এর আগে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বলেন, “বড় প্রতিবেশী দেশগুলোর ছায়ায় থেকেও বাংলাদেশের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের মনোযোগ গুরুত্বপূর্ণ।”
আসন্ন নির্বাচনের প্রসঙ্গেও তিনি বলেন, আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন হবে বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। একটি উজ্জ্বল ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের অভিযাত্রায় বাংলাদেশের পাশে থাকবে যুক্তরাষ্ট্র।


