জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশগ্রহণ শেষে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের দেশে ফেরার পর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ভিআইপি গেটে গণমাধ্যমকর্মীদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে নিন্দনীয় বলে উল্লেখ করেছে দলটি।
বৃহস্পতিবার ২ অক্টোবর দুপুরে পাঠানো এক বিবৃতিতে এনসিপি জানায়, ইতোমধ্যেই ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং সংশ্লিষ্ট দায়ীদের চিহ্নিত করার কাজ চলছে। প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত ২২ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সফরে যান। নয় দিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার সকাল ৯ টায় তিনি ও তার সফরসঙ্গীরা ঢাকায় ফেরেন। তাদের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, তারেক রহমানের উপদেষ্টা হুমায়ূন কবির, জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতারা এবং এনসিপি নেতারা ছিলেন।
বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা প্রধান উপদেষ্টার সফরসঙ্গী হিসেবে জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিয়েছিলেন। সেখানে তারা জেনারেশন-জেডের রাজনৈতিক উত্থান, নতুন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা নিয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে মতবিনিময় করেন। দেশে ফেরার পর এসব অভিজ্ঞতা ও চ্যালেঞ্জ নিয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল।
কিন্তু তার আগেই সাংবাদিকদের সঙ্গে এনসিপি নেতাকর্মীদের অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করে দলটি জানায়, “নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে সাংবাদিকরা আমাদের সহযাত্রী। এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ভবিষ্যতে এনসিপি আরও সতর্ক থাকবে এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে কাজ করবে।”
উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে যোগ দিয়ে সফরসঙ্গীদের সঙ্গে দেশে ফেরেন। এ সময় বিমানবন্দরে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
কিন্তু সেখানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ব্রিফিং করার সময় এনসিপির নেতাকর্মীরা উচ্চস্বরে স্লোগান দিতে থাকেন। এতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকরা তাদের থামতে অনুরোধ করলে উল্টো তাদের ওপর চড়াও হন এনসিপি নেতাকর্মীরা।
ফলে সাংবাদিকরা এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারার ব্রিফিং বয়কট করেন।


