লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: মাশরুম মূলত এক প্রকার ছত্রাক হলেও বর্তমানে এটি সবজি হিসেবে দারুণ জনপ্রিয়। খুব বেশি চর্বি, ক্যালরি বা সোডিয়াম ছাড়াই খাবারে চমৎকার স্বাদ যুক্ত করে এটি। এর স্বাস্থ্য উপকারিতাও ব্যাপক। ১৯৬৬ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১৭টি ক্যানসার গবেষণার পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রতিদিন মাত্র ১৮ গ্রাম বা দুটি মাঝারি আকারের মাশরুম খেলে ক্যানসারের ঝুঁকি ৪৫ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে। মাশরুমে থাকা আরগোথিওনিন নামক শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট কোষের ক্ষতি প্রতিরোধ করে। বিশেষ করে শিটাকে, অয়েস্টার ও মাইটাকে মাশরুমে এর পরিমাণ বেশি থাকলেও যেকোনো মাশরুমই ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক।
রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও সোডিয়াম গ্রহণ কমাতে খাবারে মাশরুম যুক্ত করা যেতে পারে। এক কাপ সাদা বাটন মাশরুমে মাত্র পাঁচ মিলিগ্রাম সোডিয়াম থাকে, যা খাবারে স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি অতিরিক্ত লবণের প্রয়োজনীয়তা কমায়। অন্যদিকে, ক্যালরি ও চর্বি কম থাকায় এটি রেড মিটের একটি চমৎকার বিকল্প। বিশেষ করে শিটাকে মাশরুম কোলেস্টেরল উৎপাদন ও শোষণে বাধা দিয়ে রক্তে এর সামগ্রিক মাত্রা কমিয়ে আনতে সাহায্য করে।
বয়সভিত্তিক মস্তিষ্কের দুর্বলতা বা এমসিআই (MCI) প্রতিরোধেও মাশরুম বেশ কার্যকর। সিঙ্গাপুরে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে দুই কাপের বেশি মাশরুম খেলে এমসিআই হওয়ার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ কমে যায়। এছাড়া এটি ভিটামিন ডি-এর দারুণ উৎস, বিশেষ করে যখন তা অতিবেগুনি রশ্মি বা সূর্যের আলোর সংস্পর্শে আসে। সাদা বাটন, পোরট্যাবেলা বা ক্রিমিনি মাশরুম এ ক্ষেত্রে বেশি উপকারী। পাশাপাশি মাশরুমে থাকা পলিস্যাকারাইড নামের কার্বোহাইড্রেট বা প্রিবায়োটিক অন্ত্রে স্বাস্থ্যকর ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি ঘটায়, যা পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। সেই সঙ্গে এতে থাকা সেলেনিয়াম, ভিটামিন ডি এবং বি৬ শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, প্রদাহ কমাতে এবং কোষ ও লোহিত রক্তকণিকা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর




