ভাষাসংগ্রামী, রবীন্দ্র–গবেষক ও প্রাবন্ধিক আহমদ রফিক মৃত্যু ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন প্রশ্ন ও সমালোচনার জবাব দিয়েছেন সংস্কৃতি উপদেষ্টা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
শুক্রবার (৪ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
ফারুকী জানান, তাঁর এক বন্ধুর লেখায় তিনি দেখেছেন— কেনো শিল্পী-সাহিত্যিকদের মৃত্যুর পরেই উদযাপন করা হয়, জীবিত অবস্থায় কেন নয়— এমন প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
এই প্রশ্নকে ফারুকী “ভ্যালিড” আখ্যা দিলেও ব্যাখ্যা দেন যে, সরকার এবং তিনি নিজে আহমদ রফিকের জীবিত অবস্থাতেই যোগাযোগ রেখেছিলেন ও তাঁকে নিয়ে কাজের পরিকল্পনা করেছিলেন।
ফারুকী লিখেছেন, “আমাদের একটা বড় পরিকল্পনা হচ্ছে বাংলাদেশি কিংবদন্তীদের জীবন ও কাজ সেলিব্রেট করা। শিল্পকলা একাডেমি এ নিয়ে একটি ক্যালেন্ডার তৈরি করছে। আমরা চাই, এসব অনুষ্ঠান যেন বোরিং বা অপ্রাসঙ্গিক সরকারি আয়োজন না হয়।”
তিনি জানান, সাবিনা ইয়াসমিনকে নিয়ে এমন এক আয়োজন ইতিমধ্যেই হয়েছে এবং ৮ অক্টোবর উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁর জন্মদিনে লালবাগ কেল্লায় আয়োজন করা হচ্ছে ধ্রুপদী সংগীত সন্ধ্যার। এ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন এই প্রজন্মের শিল্পীরা এবং আলাউদ্দিন খাঁর নাতি সিরাজ খাঁও উপস্থিত থাকবেন।
ফারুকী বলেন, “যারা আমাদের মাঝে আছেন আর যারা চলে গেছেন— সবাইকেই আমরা উদযাপন করবো। বদরুদ্দীন উমর থেকে শুরু করে হুমায়ুন আহমেদ, সেলিম আল দীন, তারেক মাসুদ, এস এম সুলতান, জেমস, নাসির আলী মামুন— সবাই থাকবেন এই তালিকায়। আহমদ রফিক ভাইও ছিলেন সেই তালিকায়।”
তবে ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে দেখতে গিয়ে বুঝেছিলেন, আহমদ রফিকের শারীরিক অবস্থা জনসম্মুখে কোনো আয়োজনের জন্য অনুপযুক্ত ছিল।
অর্থনৈতিক সহায়তা না করার অভিযোগের জবাবে ফারুকী লেখেন, “সরকার তার দায়িত্ব সর্বোচ্চভাবে পালন করেছে। আমরা অনেকের পাশে থেকেছি, কিন্তু প্রচার করিনি। কারণ, শিল্পী-সাহিত্যিকদের সাহায্য করে ছবি তুলে প্রচার করাটা আমাদের কাছে অসম্মানজনক মনে হয়েছে।”
এ বিষয়ে তিনি বলেন, “আমরা দায়িত্ব নেয়ার পর যাদের যাদের পাশে দাঁড়িয়েছি সেগুলো কোনোটাই প্রচার করিনি। আজকেও করতাম না, কিন্তু কেউ কেউ অভিযোগ করাতে বলতে হলো।”
পোস্টে তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই সরকার অল্পদিনের হলেও তারা সংস্কৃতিতে বড় পরিবর্তনের জন্য কাজ করছে— “আমরা অল্পদিনের সরকার। সবকিছু বদলানো সম্ভব না। তবে চেষ্টা করছি যতটুকু সম্ভব ভূমিকা রাখতে। কালচারাল ইনক্লুসিভনেস, জুলাই ন্যারেটিভ নিয়ে কাজ আমরা সর্বোচ্চ শক্তি দিয়ে করার চেষ্টা করেছি। সামনে শিল্পকলা একাডেমি গান এবং নাচের স্কুলের ব্যাপারে কিছু বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। একাডেমিতে নতুন বিভাগ আসবে। ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম, থিয়েটার, মিউজিক ফেস্টিভ্যাল নিয়ে কাজ হচ্ছে। বিয়েনালে পুনরুজ্জীবনের কাজ চলছে।”
তিনি বলেন, “আমরা শুরু করে দিয়ে যাচ্ছি। পরবর্তী সরকার এসে এটাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।”
সব শেষে ফারুকী লেখেন, “আর আমিও মুক্তি পাবো এই কঠিন দায়িত্ব থেকে! এটা আরও কঠিন কারণ ইট ইজ আ থ্যাংকলেস জব। এছাড়া আমার নিজের ছবি না বানানোর যন্ত্রণাতো আছেই।”


