বাংলাফ্লো প্রতিবেদক
ঢাকা: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে। উৎসবমুখর পরিবেশের পাশাপাশি সংঘাত ও সহিংসতার আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্র এবং অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানি নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত। যুক্ত করা হয়েছে ড্রোন ও বডি ওর্ন ক্যামেরা।
প্রচারণার শুরুতেই রাজধানী ও কুমিল্লায় পৃথক অভিযানে অস্ত্রসহ দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
রাজধানীর শ্যামপুর থেকে আজগর আলী ভোলা নামে এক অস্ত্র ব্যবসায়ীকে ২টি পিস্তল ও ২১ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করে ডিবি। ভোলা জানিয়েছে, রাজনৈতিক দলের এক নেতার কাছে বিক্রির জন্য এসব আনা হয়েছিল।
জামায়াত নেতা একেএম এমদাদুল হক মামুনের ভাই কে আই এম মাসুদুল হক মাসুমকে ১টি পিস্তল ও ১০ রাউন্ড গুলিসহ গ্রেফতার করা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, আগস্টে লুণ্ঠিত হওয়া ১ হাজার ৩৩১টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং প্রায় আড়াই লাখ রাউন্ড গোলা-বারুদ এখনো উদ্ধার হয়নি। এসব অস্ত্র নির্বাচনে ব্যবহারের শঙ্কা রয়েছে। তবে এআইজি (মিডিয়া) এএইচএম শাহাদাৎ হোসাইন জানান, ৮০ শতাংশ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে এবং বাকিগুলো উদ্ধারে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দ্বিতীয় পর্বে ভোটকেন্দ্রিক বিশেষ নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হবে। এবারই প্রথম পুলিশ বডি ওর্ন ক্যামেরা ও ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করছে।
আইজিপি ড. বাহারুল আলম ও ডিএমপি কমিশনার শেখ সাজ্জাত আলী মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন। আইজিপি বলেন, ‘নির্বাচনি পরিবেশে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পুলিশ সদস্যদের গায়ে থাকা ক্যামেরায় সব রেকর্ড হচ্ছে।’ ডিএমপি কমিশনার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, নিরপেক্ষতা হারালে স্ট্যান্ডরিলিজসহ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) ড. নাঈম আশফাক চৌধুরী উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘প্রত্যাশা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি। তুচ্ছ ঘটনায় সংঘাত হচ্ছে এবং ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির চেষ্টা চলছে।’
বাংলাফ্লো/এফআইআর






