বাংলাফ্লো প্রতিনিধি
ঢাকা: দেশে ব্যাংক খাতে কোটিপতি আমানতকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করেছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি মন্তব্য করেছেন, মানুষ দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে যে অর্থ লুকিয়ে রেখেছিল, তা এখন ব্যাংকে জমা দেওয়ার কারণেই কোটিপতি হিসাবধারীর সংখ্যা বাড়ছে।
মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
সাংবাদিকরা জানতে চান, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও ব্যাংকে কোটিপতি হিসাব বাড়ার কারণ কী? জবাবে ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, “এটা হতে পারে অনেকদিন ধরে লুকিয়ে-টুকিয়ে রাখছিল বাড়ির ভেতরে, এখন ব্যাংকে জমা দিচ্ছে। টাকা-পয়সা যে নেই লোকজনের কাছে অনেক ক্ষেত্রে এটা সত্য।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে কোটিপতি গ্রাহকের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে।
জুন থেকে সেপ্টেম্বর: গত তিন মাসে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ব্যাংকে কোটিপতি হিসাব বেড়েছে ৭৩৪টি।
মোট কোটিপতি হিসাব: সেপ্টেম্বর প্রান্তিক শেষে দেশে মোট কোটিপতি ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার ৭০টিতে। এর আগে জুন শেষে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ২৭ হাজার ৩৩৬টি।
নতুন ব্যাংক হিসাব: গত তিন মাসে ব্যাংক খাতে মোট নতুন হিসাব খোলা হয়েছে প্রায় ৫৫ লাখ ৯৪ হাজার। ফলে মোট ব্যাংক হিসাবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭ কোটি ৪৫ লাখ ৯৬ হাজার ৭০০টিতে।
আমানত বাড়লেও কোটিপতিদের টাকা কমেছে: প্রতিবেদনে একটি কৌতুহলদ্দীপক তথ্য উঠে এসেছে। একদিকে যেমন কোটিপতি হিসাবের সংখ্যা বেড়েছে, অন্যদিকে এই হিসাবগুলোতে জমানো মোট টাকার পরিমাণ কমেছে।
জুন শেষে কোটি টাকার হিসাবগুলোতে জমা ছিল ৮ লাখ ৮০ হাজার ৭৭২ কোটি টাকা।
সেপ্টেম্বর শেষে তা কমে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ২১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকায়।
অর্থাৎ, তিন মাসে কোটিপতিদের হিসাব থেকে ৫৯ হাজার ২০৯ কোটি টাকা কমেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে কোটিপতি আমানতকারী ছিল মাত্র ৫ জন। ১৯৭৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪৭ জনে। পরবর্তীতে ২০০৮ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৯ হাজার ১৬৩টি। আর ২০২৪ সালে এসে তা ১ লাখ ২১ হাজার ছাড়িয়ে বর্তমানে ১ লাখ ২৮ হাজারে পৌঁছেছে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর






