লাইফ স্টাইল ডেস্ক
ঢাকা: হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা নাক ও গলায় থাকা ভাইরাসের কারণে হয়। এর ফলে গুরুতর অসুস্থতা, হাসপাতালে ভর্তি এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এই রোগে ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, মস্তিষ্কের ক্ষতি, শ্রবণশক্তি হ্রাস এবং অন্ধত্বের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারী, শিশু, ছোট বাচ্চা এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে এই রোগের মারাত্মক ঝুঁকি রয়েছে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এখন পর্যন্ত হামের সরাসরি কোনো নিরাময় বা চিকিৎসা নেই।
সংক্রামিত কোনো ব্যক্তি কাশি বা হাঁচি দিলে হাম সহজেই বাতাসের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। হামের টিকা না নেওয়া প্রতি ১০ জনের মধ্যে প্রায় ৯ জনই এই ভাইরাসের সংস্পর্শে এলে আক্রান্ত হন। এমনকি সংক্রামিত ব্যক্তি কোনো এলাকা ছেড়ে যাওয়ার দুই ঘণ্টা পরও সেই একই বাতাসে শ্বাস নিলে অন্য কেউ এই রোগে আক্রান্ত হতে পারেন। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, রোগীর শরীরে উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই হাম ছড়াতে পারে।
হামের প্রধান লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ১০১ থেকে ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তারও বেশি মাত্রার উচ্চ জ্বর, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া এবং চোখ লাল হয়ে পানি ঝরা। এছাড়া মুখের ভেতরে ছোট ছোট সাদা দাগ বা কপলিক স্পট দেখা দেয়। শরীরে লাল দাগের র্যাশ ওঠে, যার কিছু সামান্য উঁচু হতে পারে। সাধারণত মুখ বা চুলের গোড়া থেকে শুরু হয়ে এই র্যাশ ধীরে ধীরে শরীরের বাকি অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
কারও মধ্যে হামের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জেনে নেওয়া উচিত। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ বা চিকিৎসকের পূর্বানুমতি ছাড়া সরাসরি জরুরি বিভাগ বা হাসপাতালে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে অন্যদের সংক্রমিত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। অন্যদের সুরক্ষায় রোগীকে মাস্ক পরতে হবে এবং কাশি বা হাঁচির সময় টিস্যু দিয়ে মুখ ও নাক ঢাকতে হবে। ব্যবহৃত টিস্যুটি ঢাকনাযুক্ত ডাস্টবিনে ফেলা জরুরি। টিস্যু না থাকলে হাতের তালুর বদলে কনুইয়ের ভাঁজে বা জামার ওপরের অংশে হাঁচি-কাশি দিতে হবে।
পাশাপাশি সংক্রমণ এড়াতে সাবান ও পানি দিয়ে ঘন ঘন হাত ধোয়ার অভ্যাস করতে হবে। রোগীর ব্যবহৃত পানীয় বা খাওয়ার বাসনপত্র অন্যদের ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া দরজা, টেবিল, কাউন্টার এবং ব্যবহার্য ইলেকট্রনিক ডিভাইসের মতো বেশি স্পর্শ করা স্থানগুলো নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করতে হবে।
বাংলাফ্লো/এফআইআর



