স্পোর্টস ডেস্ক
ঢাকা: আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত ও শ্রীলঙ্কায় শুরু হতে যাচ্ছে আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দশম আসর। প্রতি দুই বছর পরপর আয়োজিত এই মেগা ইভেন্ট নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে থাকলেও, বাংলাদেশের বাদ পড়া এবং পাকিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তার নাটকীয়তা এখনো কাটেনি। এর মধ্যেই টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এই বৈশ্বিক প্রতিযোগিতাকে ‘বিশ্বকাপ’ সমমানের মনে করেন না বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ভারতীয় ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার সঞ্জয় মাঞ্জরেকার। তিনি এই টুর্নামেন্টের জন্য ভিন্ন একটি নামও প্রস্তাব করেছেন।
মূলত ওয়ানডে ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ও মর্যাদা নিয়ে দুশ্চিন্তা থেকেই এমন মন্তব্য করেছেন মাঞ্জরেকার। তার মতে, ক্রিকেটের সর্বোচ্চ আসর বলতে কেবল ওয়ানডে বিশ্বকাপকেই বোঝায়। নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিস্তারিত লিখেছেন, ‘আমার কাছে “ক্রিকেট বিশ্বকাপ” মানে সবসময়ই ৫০ ওভারের বিশ্বকাপ। দুই বছর পরপর টি-টোয়েন্টি সংস্করণের যে টুর্নামেন্ট হয়, এটিকে চার বছর পরপর আসা (ওয়ানডে) বিশ্বকাপের সমমানে দেখা উচিত নয়। আমার মতে এর প্রকৃত নাম হতে পারে– দ্য ওয়ার্ল্ড টি-টোয়েন্টি।’
সঞ্জয় মাঞ্জরেকারের মতো একই সুর শোনা গেছে আরও অনেক ক্রিকেট বোদ্ধার কণ্ঠে। তাদের মতে, টেস্ট ও টি-টোয়েন্টির চাপে ওয়ানডে ফরম্যাট ‘স্যান্ডউইচ’ হয়ে পড়ছে এবং ধীরে ধীরে প্রাসঙ্গিকতা হারাচ্ছে। চলতি মাসের শুরুর দিকে ভারতীয় স্পিনার রবিচন্দ্রন অশ্বিনও ওয়ানডে ফরম্যাটের ভাগ্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপ হতে যাচ্ছে বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মার শেষ আসর—এমনটা উল্লেখ করে অশ্বিন নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘অ্যাশ কি বাত’-এ বিস্তারিত কথা বলেছেন।
অশ্বিন বলেন, ‘আমি ২০২৭ বিশ্বকাপের পর ওয়ানডের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিত নই। আমি এ নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন। অবশ্যই আমি (ভারতের ওয়ানডে ফরম্যাটের ঘরোয়া প্রতিযোগিতা) বিজয় হাজারে ট্রফি দেখি, কিন্তু ততটা নয় যতটা সৈয়দ মুশতাক আলি ট্রফি (টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট) অনুসরণ করি। বিষয়টা আমার কাছে কঠিন মনে হয়। অবশ্য আমাদের দেখা জরুরি যে দর্শকরা কী দেখতে চায়। আমি মনে করি টেস্ট ক্রিকেটের এখনও একটা অবস্থান আছে, কিন্তু ওয়ানডের ততটা নেই বলে অনুভব করি।’
আন্তর্জাতিক টেস্টে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেটশিকারি (৫৩৭) এবং ওয়ানডেতে ১৫৬ উইকেটের মালিক অশ্বিন তারকা ক্রিকেটারদের প্রভাব নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘দেখুন রোহিত ও কোহলি যখন বিজয় হাজারে ট্রফিতে ফিরল, মানুষ তা অনুসরণ করা শুরু করে। আমরা জানি যে, খেলা সবসময়ই ব্যক্তির চেয়ে বড়, কিন্তু একই সময়ে এমন (রোহিত-কোহলি) খেলোয়াড়ের প্রত্যাবর্তনও প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে।’
বাংলাফ্লো/এফআইআর






